ট্যাংকার উল্টে সড়ক বন্ধ, ৩২ জেলার যান চলাচল বিঘ্নিত

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:৫৯ এএম

কুষ্টিয়ায় বেহাল রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাকৃতিক তরল গ্যাস (এলপিজি) ভর্তি একটি ট্যাংকার আড়াআড়িভাবে মহাসড়কের ওপর উল্টে পড়ে গেছে। গত রবিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ট্যাংকারটি উল্টে পড়ে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজটের। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গের ৩২ জেলার যানবাহন চালক-শ্রমিক ও যাত্রীরা।

এদিকে দুর্ঘটনার ৩০ ঘণ্টা পর গতকাল রাত ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত দুর্ঘটনাকবলিত ট্যাংকারটি সরানো সম্ভব না হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া মহাসড়কের দু’পাশে আটকে পড়া কয়েক ট্রাক চালক ও তাদের সহকারীরা (হেলপার) সেখানে বিক্ষোভ করছিলেন।

কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে থানার ওসি ইদ্রিস আলী জানান, রবিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা বন্দর থেকে বড় সিলিন্ডারবাহী ১০ চাকার একটি ট্যাংকার প্রায় ১৭ টন এলপিজি  নিয়ে নাটোর যাচ্ছিল। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের মিরপুর বহলবাড়িয়া এলাকায় ভাঙাচোরা সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্যাংকারটি সড়কের ওপর উল্টে যায়। আড়াআড়িভাবে পড়ে থাকায় উভয় দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই মহাসড়ক দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ৩২ জেলার মানুষ যাতায়াত করে। গ্যাসভর্তি ভারী সিলিন্ডার অতি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেটি স্থানীয় কোনো পদ্ধতিতে সরানো সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এবং পাবনার জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেনের সঙ্গে কথা বলে ট্যাংকারটি উদ্ধারে প্রযুক্তি সহায়তা চাওয়া হয়েছিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকৌশলীদের কাছে। সেখান থেকে একটি কারিগরি টিম ঘটনাস্থলে এসে দেখার পর তরল গ্যাসভর্তি ওই ট্যাংকারটি উদ্ধার চরম ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তারা ফিরে যায়। যেকোনো সময় সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হতে পারে এমন আশংকা থেকে তারা ঝুঁকি নিতে চাননি।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘উন্নত প্রযুক্তির বড় ক্রেন ছাড়া গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার সরানো সম্ভব হচ্ছে না।’

কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. জানে আলম বলেন, ‘স্থানীয় কারিগরি পদ্ধতি (চেইন কপ্পার) ব্যবহার করে অন্তত রাস্তা থেকে সরিয়ে যানজটমুক্ত করার চেষ্টা চলছে। ঠিক কখন নাগাদ এটা সম্ভব হবে তা বলা মুশকিল। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন, হাইওয়ে পুলিশ প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে কাজ করছে। তবে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাসভর্তি ট্যাংকবাহী লরিটি সরাতে অন্তত দুটি ভারী ক্রেন এবং ট্যাংকের গ্যাস অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিও লাগবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই লরির মালিকপক্ষকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সেগুলো আনতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত