দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গতকাল সোমবারও বেশ কয়েকটি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে লালমনিরহাটের খেলতে গিয়ে বালুবাহী ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। নীলফামারীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর। বাগেরহাটে মাটিবাহী ট্রাকচাপায় মারা গেছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী। এসব দুর্ঘটনায় আরও চারজনের আহত হওয়ার তথ্য মিলেছে।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, নিহত শিক্ষার্থীর নাম লিয়ন ইসলাম (১২)। সে উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের ধবলসূতী গ্রামের দিনমজুর খাইরুল ইসলামের ছেলে। লিয়ন পেদীরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পাটগ্রাম থানা পুলিশ জানায়, গতকাল লিয়ন তার বাড়ির সামনের সড়কে খেলছিল। এ সময় পাটগ্রাম-ধবলসূতী আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে চলাচল করা বালু পরিবহনের একটি খালি ট্রাক্টর ট্রলি যাচ্ছিল। লিয়ন দৌড়ে গিয়ে চলন্ত ট্রলিতে ওঠার চেষ্টা চালায়। এ সময় পা পিছলে ট্রলি থেকে ছিটকে পড়ে চাকার নিচে চলে যায়। পরে চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থালেই মারা যায় সে। পাটগ্রাম থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, নিহত শিশুর পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। তাদের আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নীলফামারীতে নয়ন রায় (১৬) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নীলফামারী-সৈয়দপুর সড়কের ফুলতলা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। নয়ন জেলা সদরের খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের দোলপাড়া গ্রামের মাধব চন্দ্র রায়ের ছেলে ও শহরের নীলসাগর ক্যাডেট একাডেমির মানবিক বিভাগের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। এ সময় তার সহপাঠী সোহেল গুরুতর আহত হয়। সে জেলা শহরের পূর্ব কুখাপাড়া মহল্লার জিল্লুর রহমানের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নয়ন তার বন্ধু সোহেলসহ মোটরসাইকেল চালিয়ে সৈয়দপুর যাচ্ছিল। ফুলতলায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোরিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেলচালক নয়ন ও সোহেল ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। তাদের জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নয়নকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সোহেল চিকিৎসাধীন।
বাগেরহাট সদরের বৈটপুর এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ড্রাম ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে রিকশচালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও একজন। গতকাল বেলা পৌনে ১২টার সময় বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের সদর উপজেলার বৈটপুর এলাকায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
নিহতরা হলেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার খলিশাখালী গ্রামের মিজানুর রহমান বাঘা (৫৫) এবং একই উপজেলার দোবাড়িয়া গ্রামের তৈয়বুর রহমানের ছেলে লুৎফর রহমান (৬২)। লুৎফর ছিলেন ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক।
বাগেরহাট মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তারিকুল ইসলাম জানান, বাগেরহাট থেকে পিরোজপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি ড্রাম ট্রাক ঘটনাস্থলে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি ব্যাটারিচালিত রিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে রিকশাযাত্রী মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং রিকশাচালক লুৎফরকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার সময় রিকশার পেছনে থাকা অন্য একটি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়।
