লম্বা সময় নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করলেন। এরপর লম্বা বিরতিতে ড্রেসিংরুমে তামিম ইকবাল। সংবাদ সম্মেলনের জন্য আসার আগে মাঠে তাকে দেখা যায়নি তেমন। ওদিকে দৃপ্ত পদে স্পিন বোলিংটা শানানোর খুব একটা প্রয়োজন মনে করেননি সাকিব আল হাসান। বরং স্পিনটা রেখে ব্যাটিংয়ের পর নেটে পেস বোলিং করলেন কয়েক রাউন্ড। সেই সঙ্গে ছিল হাসি-ঠাট্টা। অনুশীলনে এতটা হালকা থাকলেও আফগানিস্তানকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এই মাঠে দুই দলের শেষ লড়াইয়ের স্মৃতি যে বাংলাদেশকে গোমড়ামুখো করে দিচ্ছে। ২০১৯-এ একমাত্র টেস্টের ওই জয় হাশমতউল্লাহ শাহিদিদের প্রেরণা। যেখানে থেমেছিলেন সেখান থেকেই শুরু করতে চান তারা। সেই আফগানদের থামাতে তামিমদের সাহস দিচ্ছে এই ফরম্যাট। ওয়ানডেতে যে অন্যরকম বাংলাদেশ। আফগানরা যতই আন্ডারডগ হয়ে চোখ রাঙানি দিক তামিমদের ভরসা ওয়ানডের সাফল্য। যে কারণে আজ থেকে শুরু ওয়ানডে সুপার লিগের পঞ্চম সিরিজে দারুণ কিছুর সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ।
ওয়ানডেতে সেই জুলাইয়ের পর ফিরছে বাংলাদেশ। তামিমের ফেরাটাও ঠিক একই সময় পর। এতদিনের একটা ‘গ্যাপ’ থাকলেও দুশ্চিন্তা নেই বাংলাদেশ শিবিরে। কারণ বিপিএল। এই টুনামেন্ট দিয়ে ক্রিকেটের মধ্যেই আছেন দলের সবাই। তাই চিন্তিত নন ওয়ানডে অধিনায়ক। টি-টোয়েন্টির আসর শেষ করলেও আফগানিস্তানের সঙ্গে ৫০ ওভারের ম্যাচ দিয়ে সিরিজ শুরু করাটা পছন্দ হয়েছে তামিমের। এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ ভালো খেলে। তাই লম্বা গ্যাপটা পূরণ করা কঠিন নয় তামিমদের জন্য। ‘আফগানদের সঙ্গে ওয়ানডে দিয়ে শুরু করাটা সঠিক সিদ্ধান্ত। দ্বিধাহীনভাবে এটা আমাদের প্রিয় ফরম্যাট। এ বছর বেশ কয়েকটা ওয়ানডে আছে। গত বছর এভাবে ছিল না। আশা করছি ভালো শুরু পাব। ছন্দে ফেরাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সবাই খেলার মধ্যে আছে, এটা ইতিবাচক। দল হিসেবে ভালো করতে হবে এটাই আসল।’
আফগানিস্তানের সঙ্গে বিশ্বকাপ ও দ্বিপক্ষীয় সিরিজ মিলিয়ে মোট ৮টি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। যার পাঁচটিতেই জয় আছে। তিনটিতে হার। এই পরিসংখ্যান সাহস জোগালেও হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন এখনই দেখছেন না তামিম। আগে লম্বা বিরতির ফেরাটা জয় দিয়ে শুরু করতে চান। তামিমের বিশ্বাস দলে সাকিব-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহকে একসঙ্গে পাওয়ায় সেটা সম্ভব। তাছাড়া সুপার লিগের পয়েন্টের ব্যাপার থাকায় তামিমরা আরও গুরুত্ব দিচ্ছেন শুরুটা ভালো করার। ১২ ম্যাচে ৮ জয়ে ৮০ পয়েন্ট নিয়ে আগামী বছর বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনের প্রতিযোগিতার দুই নম্বরে আছে বাংলাদেশ। ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও ইংল্যান্ডকে (৯৫) টপকে প্রতিযোগিতার শীর্ষে উঠবে টাইগাররা। তামিম বলেন, ‘আফগানিস্তান ভালো দল সন্দেহ নেই। মানসম্পন্ন বোলিং আক্রমণ আছে। তবে এই বোলিং আক্রমণের বিপক্ষেই আমরা আগে ভালো করেছি। আমাদের যারা খেলবে ব্যাট হাতে সবাই ছন্দে আছে। আমি লাকি যে এই সিরিজে আমরা ফুল দল পাব। অধিনায়ক হিসেবে বলব আমার জন্য এর চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে না। আরেকটা প্লাস পয়েন্ট হলো যে সবাই ভালো অবস্থানে আছে, পারফরম্যান্স-মানসিকভাবে। সত্যি আশা করছি কাল ভালো কিছু শুরু করব। কারণ, এটা সুপার লিগের সিরিজ।’
সুপার লিগে আফগানিস্তানও ভালো অবস্থানে। আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে খেলা দুই সিরিজের ৬ ম্যাচের সবকটিতে জিতেছে তারা। সেই ধারাবাহিকতা আফগানরা ধরে রাখতে চায়। সেখানে শাহিদিদের সাহস ও আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশের পিচ। সঙ্গে বাংলাদেশ দলে হেড কোচ হিসেবে কাজ করা অস্ট্রেলিয়ান কোচ স্টুয়ার্ট ল’কে তারা নিয়ে আসতে পেরেছে এই সিরিজে। ল’র কাছ থেকেই এই ভেন্যুর অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন শাহিদি, ‘অবশ্যই আমি সেই জয় থেকে (টেস্ট) শুরু করতে চাই। এই মাঠে আমাদের দারুণ স্মৃতি আছে সেখান থেকে আমরা ইতিবাচক দিকগুলো নেব। আমরা কালও সেখান থেকে শুরু করব। কারণ আমাদের যে স্পিন আক্রমণ আছে তারা এখানকার কন্ডিশনে খেলেছে। আগের অভিজ্ঞতা অবশ্যই ওরা কাজে লাগাবে। বাংলাদেশের কন্ডিশন তো এমনিতেও আমাদের স্পিনারদের সহযোগিতা করে। সেই সঙ্গে আমি বলব স্টুয়ার্ট ল আছেন, তার অভিজ্ঞতাও আছে এই কন্ডিশন সম্পর্কে। উনি আমাদের এখানকার পিচের আচরণ সম্পর্কে বাড়তি ধারণা দিচ্ছেন।’
শাহিদির ভরসার জায়গা ওই স্পিনটাই ভয়ের বাংলাদেশের জন্য। পিএসএলে ৯ ম্যাচে ১৩ উইকেট পাওয়া রাশিদ খান, বিপিএলে ৮ ম্যাচে ১০ উইকেট পাওয়া মুজিব উর রহমান প্রস্তুত তামিমদের ভোগাতে। যদিও তামিম তাদের নিয়ে ভাবছেন না। প্রতিপক্ষের কমপক্ষে ৫ বোলারকে খেলতে হবে। তাই সবাইকেই সমান চোখে দেখবেন তামিম, ‘আমি নির্দিষ্ট কোনো বোলারকে নিয়ে বেশি কথাবার্তা বলতে চাই না। তাদের বোলিং অনেক ভালো, সম্ভবত সেরা স্পিন অ্যাটাক তাদেরই। কিন্তু এদের বিপক্ষেই আমরা অতীতে অনেক ভালো করেছি, বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যাটে। আবার কেন করতে পারব না? প্রতিপক্ষ নিয়ে না ভেবে নিজেদের নিয়ে ভাবতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সহজ বোলার আপনি খুব কমই পাবেন। আমাদের মানিয়ে নিয়ে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে হবে।’
আফগান অধিনায়ক শাহিদির ভাবনাও এক। সাকিব-তামিম-মুশফিকদের সমীহ করছেন ঠিকই কিন্তু দলের তরুণ সদস্যকেও তারা বেঁধে রাখতে চান। বাংলাদেশের অবশ্য চিন্তার জায়গা আছে আরেকটি। ৪ বা ৫ নম্বরের ব্যাটার। এই পজিশনের জন্য দলে নতুন দুই মুখ এসেছেন। মাহমুদুল হাসান জয় বা ইয়াসির আলি রাব্বিকে খেলানো হবে এই পজিশনে। বিপিএল পারফরমে একাদশে সুযোগ পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রাব্বি। তাহলে গত সিরিজে টেস্টের পর এবার ওয়ানডে অভিষেকটাও হয়ে যাবে তার। সেই সঙ্গে তিন পেসার মোস্তাফিজ, শরিফুল ও তাসকিন। স্পিনে সাকিব-মিরাজ। অলরাউন্ডার হিসেবে মাহমুদউল্লাহও থাকছেন। ব্যাটিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গে ওপেনে লিটন দাস, তিনে সাকিব, চারে মুশফিকুর রহিমদের নিয়ে সুপার লিগে তৃতীয় সিরিজ জয়ের অভিযানে নামবে বাংলাদেশ।
