চার বছর পর বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার ছেলের

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:২৭ এএম

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কৃষক দেলদার মিয়ার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই কৃষককে পিটিয়ে হত্যার দীর্ঘ চার বছর পর তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর পিবিআই। ছেলে সোহেল মিয়া বাবাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআইর রংপুর জেলা পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পীরগঞ্জের চাপাবাড়ি গ্রামের কৃষক দেলদার মিয়াকে আহত অবস্থায় তার বাড়ির বাঁশঝাড় থেকে উদ্ধার করে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে দুই দিন পরেই মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনায় রংপুর কোতোয়ালি থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর একটি মামলা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুকে নরহত্যা প্রকৃতির বলে উল্লেখ করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ মামলাটি পীরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়। তবে এক বছর পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন না পাওয়ায় মামলাটির অধিকতর তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআই রংপুরকে নির্দেশ দেয় আদালত। এরপর মামলাটির তদন্ত শুরু করেন পিবিআইর এসআই শফিউল আলম।

প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে গত সোমবার দেলদার মিয়ার মেজো ছেলে সোহেল মিয়া ওরফে লেবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে আদালতে বাবাকে পিটিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি।

পুলিশ সুপার জাকির হোসেন জানান, ঘটনার দিন মেয়ে দেলোয়ারা বাঁশঝাড়ে বাঁশ কাটতে গেলে দেলদার মিয়া বাধা দেন। তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত সোহেল মিয়া বোনের পক্ষ নিয়ে বাবার সঙ্গে বাগ্বিত-ায় জড়ান। একপর্যায়ে কাটা বাঁশ দিয়ে বাবার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। 

পরে তিনি প্রচার করেন বাঁশ কাটতে গিয়ে আকস্মিক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তার বাবা আহত হয়েছেন। তবে ঘটনার কিছুদিন পর সোহেল পালিয়ে যান। তার বিষয়টি মাথায় রেখেই পিবিআই তদন্তে নেমে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করে। 

পুলিশ সুপার জাকির হোসেন বলেন, ছেলে তার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করে। কিন্তু পরিবারের লোকজন আন্তরিকভাবে সহায়তা না করায় ওই মামলার রহস্য উদঘাটনে সময় লেগেছে। আসামি নিজেই আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত