রডের দাম নিয়ন্ত্রণে কর ভ্যাট কমানোর দাবি

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:৩৪ পিএম

দুই বছরে রড তৈরির কাঁচামাল মেল্টিং স্ক্র্যাপের দাম প্রায় ৮৪ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ইস্পাত খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) নেতারা। আন্তর্জাতিক বাজারে রডের কাঁচামাল ও রাসায়নিকের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশেও রডের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ফলে দামও বাড়ছে। এ অবস্থায় রডের দাম নিয়ন্ত্রণে আগামী বাজেটে কর ও ভ্যাট কমানোর দাবি জানিয়েছেন বিএসএমএ নেতারা। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।

ইস্পাতশিল্পের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে ইস্পাত খাতের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ ও দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএসএমএর সাধারণ সম্পাদক ও মেট্রোসেম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহিদউল্লাহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএ সভাপতি মানোয়ার হোসেন, সহসভাপতি সুমন চৌধুরী, পরিচালক আশরাফুজ্জামান, আশরাফ সিদ্দিকী, হুমায়ূন কবির প্রমুখ।

লিখিত বক্তবে মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ২০২০ সালের মার্চ-এপ্রিলে রড তৈরির কাঁচামাল মেল্টিং স্ক্র্যাপের প্রতি টনের দাম ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ মার্কিন ডলার, যা এখন ৫৫০ থেকে ৫৯০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় দুই বছরের ব্যবধানে স্ক্র্র্যাপের দাম টনপ্রতি প্রায় ৮৪ শতাংশ বা ২৭০ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে।

মো. শহিদউল্লাহ বলেন, ইস্পাতের কাঁচামাল ও রড উৎপাদনে ব্যবহৃত রাসায়নিকের বড় অংশই আমদানিনির্ভর। করোনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে রড তৈরির কাঁচামাল ও রাসায়নিকের দুষ্প্রাপ্যতা তৈরি হয়েছে। গত বছর ইস্পাতপণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত প্রধান রাসায়নিক ফেরো অ্যালয়সের প্রতি টনের দাম ছিল গড়ে ৮৫০ ডলার, যা বর্তমানে ১৪৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এক বছরে রাসায়নিকের দাম বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। এ ছাড়া পণ্য পরিবহনে কনটেইনার ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বাজারে রডের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। এ জন্য আগামী বাজেটে স্ক্র্যাপ (রড তৈরির প্রাথমিক কাঁচামাল) থেকে বিলেট (রড  তৈরির মধ্যবর্তী কাঁচামাল) এবং বিলেট থেকে রড তৈরিতে ভ্যাটের পরিমাণ ১০০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২৫০ টাকা করার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি যেসব কারখানা স্ক্র্যাপ থেকে বিলেট তৈরির পর সেখান থেকে রড উৎপাদন করে, তাদের ভ্যাটের পরিমাণ ২০০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করার দাবি জানান।

বিএসএমএ সভাপতি ও আনোয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান মানোয়ার হোসেন বলেন, রডের দাম বেড়ে যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে ভোক্তারা রড কেনা বন্ধ করে দেবেন। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমরা দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে সামনে দাম আরও বাড়বে। সেটি হলে এ খাতের সঙ্গে জড়িত সব খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নকাজ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বিএসএমএ জানায়, বর্তমানে স্ক্র্যাপ আমদানিতে ১৫০০ টাকা কাস্টমস ডিউটি ও ৫০০ টাকা অগ্রিম আয়কর (এআইটি) দিতে হয়। ব্যবসায়ীরা স্ক্র্যাপের কাস্টমস ডিউটি কমিয়ে ৫০০ টাকা এবং অগ্রিম আয়কর ১০০ টাকা করার প্রস্তাব করেন। অন্যদিকে রড তৈরির রাসায়নিক আমদানিতে বর্তমানে ৮০০ টাকা কাস্টমস ডিউটি ও ৫০০ টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হয়। আগামী বাজেটে রাসায়নিক আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার ও অগ্রিম আয়কর কমিয়ে ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেন সংগঠনটির নেতারা।

এ ছাড়া ইস্পাতপণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত অপর রাসায়নিক ফেরো অ্যালয়সের আমদানিতে আরোপিত নিয়ন্ত্রণমূলক বা রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহারের পাশাপাশি উৎপাদনের পর রড বিক্রির ক্ষেত্রে উৎসে কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করারও দাবি জানানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত