কৃষকের জমির মাটি জোর করে কেটে নিচ্ছে ঠিকাদার

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:৪৬ পিএম

রাস্তা সংস্কার ও বর্ধিতকরণের কাজে জয়পুরহাটে এক ঠিকাদার কৃষকদের কাছ থেকে জোর করে তিন ফসলি জমির উর্বর মাটি (টপসয়েল) কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে আগামী কয়েক বছর ওইসব জমিতে ফসল হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকশ কৃষক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ ব্যাপারে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

সরেজমিনে গেলে শতাধিক কৃষক হাহাকার করে বলেন, আমাদের না জানিয়ে তিন ফসলি জমি থেকে যন্ত্র (ভেকু মেশিন) দিয়ে মাটি কাটা শুরু করে ঠিকাদারের লোকজন। আমরা বাধা দিলে ঠিকাদারের লোকজন বলে, ‘সরকারি কাজে বাধা দিলে তোমাদের সমস্যা হবে।’ তারা আরও নানারকম হুমকি-ধমকি দিয়ে জোর করে মাটি কেটে নিয়ে রাস্তায় ফেলে। জমির প্রাণ উর্বর মাটি তুলে নেওয়ায় আগামী ৮-১০ বছর এসব ক্ষেতে ফসল হবে না। আমরা যথাযথ ক্ষতিপূরণ চাই।

সরেজমিনে আরও জানা যায়, এলজিইডির ব্যবস্থাপনায় জয়পুরহাট সদর উপজেলার দুর্গাদহ থেকে হরিপুরের প্রায় ৬ কিলোমিটার রাস্তা ২ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে বর্ধিত, সংস্কার ও কার্পেটিং করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইথেন এন্টারপ্রাইজ। এ কাজের মাটি সরবরাহের জন্য ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৭৭ টাকা চুক্তি আছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। কিন্তু চুক্তির নিয়ম উপেক্ষা করে রাস্তার দু-পাশের বিভিন্ন স্থান থেকে স্থানীয়দের তিন ফসলি জমির মাটি জোর করে কেটে নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে সড়কের দুধারের তিন কিলোমিটারজুড়ে শতাধিক কৃষকের জমির উর্বর মাটির দফারফা করা হয়েছে। এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে কোথাও জমিতে এমন গর্ত করা হয়েছে যা ভরাট করতে কৃষকদের বেগ পেতে হবে। উপরন্তু অন্তত এক দশক ওইসব জমিতে ফসল ফলবে না।

স্থানীয় কৃষক মো. বাবু, রফিকুর ইসলাম, সেলিনা বেগম, তরিকুল ইসলাম, হারুনুর রশিদসহ অনেক কৃষক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের না জানিয়ে রাস্তার দুপাশের জমি থেকে ইচ্ছামতো আলু, সরিষা, কলা বাগান, নতুন লাগানো ধান নষ্ট করে ভেকো মেশিন দিয়ে ৫ থেকে ৮ ফিট সরু, গভীর ও চওড়া করে জোরপূর্বক মাটি কেটে রাস্তার দুপাশে দিচ্ছে। আমরা বাধা দিলে ঠিকাদারের লোকজন নানা রকম হুমকি দেয়।

এস্কেভেটর ড্রাইভার জয়নাল আবেদিনকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ঠিকাদারের ম্যানেজার যা বলে আমরা তাই করি। যেখানে দেখিয়ে দিচ্ছে সেখানেই মাটি কাটি।

ভাদ্সা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রেজাউল করিম লিটন বলেন, মাটি কাটতে বাধা দিতে গিয়েছিলাম, কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন আমার কথা শোনেনি।

জয়পুরহাট সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক ঠাকুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাসিক সমন্বয় মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করে ঠিকাদারের শাস্তির দাবি জানাব।

কৃষকদের ক্ষতিপূরণও দিতে হবে।

এ ব্যাপারে ইথেন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইকবাল শাহরিয়ার রাসেলকে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি লাইন কেটে দেন।

জয়পুরহাট সদর উপজেলা এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, কৃষকের ক্ষতি করে মাটি কাটার বিধান নেই। মাটি সরবরাহের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া আছে, সেই অর্থ দিয়ে ঠিকাদার অন্য জায়গা থেকে মাটি আনতে পারেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত