শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভের পানির স্তর নেমে যাওয়ায় বোরো ধানের আবাদ করে কয়েক বছর ধরে আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন ফরিদপুর অঞ্চলের ধান চাষিরা। তাই ইদানীং এ ধানের আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন অনেকেই। এতে গত দশ বছরে এ জেলায় বোরো ধানের আবাদ কমেছে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর।
বোরো চাষিদের ভাষ্যমতে, বোরো চাষাবাদ এখন সম্পূর্ণ সেচ নির্ভর হওয়া ছাড়াও শ্রমিক খরচ, কীটনাশক এবং সারের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ পড়ে যায় অনেক বেশি। অন্যদিকে উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় প্রতিবছরই ফরিদপুর অঞ্চলে এই ধানের চাষাবাদ কমেছে।
ফরিদপুর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর জেলার নয়টি উপজেলায় ২০১০-১১ সালে জেলায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার ৪১৭ হেক্টর, এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৩৮ হাজার ছয় হেক্টর। আর ২০২০-২০২১ সালে বোরো লক্ষ্যমাত্র ছিল ২৩ হাজার হেক্টর। সেখানে চাষাবাদ হয় মাত্র ৭ হাজার ৪শ হেক্টরে। সর্বশেষ চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ২১ হাজার ৭শ হেক্টরের বিপরীতে আবাদ হয়েছে মোটে ৭ হাজার ৯শ হেক্টর জমিতে।
বোরো চাষে এই ধসের কারণ সম্পর্কে ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের চাষি হাফিজ মাতুব্বর, মোতালেব মোল্লা, করিম শেখসহ বেশ কয়েকজন জানালেন, গত কয়েক বছর আগে সেচ মেশিন দিয়ে ঘণ্টায় যে পরিমাণ পানি উত্তোলন করা যেত, এখন সেখানে তিন ঘণ্টায়ও সেই পরিমাণ পানি তোলা যায় না। আর বোরো ধান চাষ শুধু সেচ নির্ভর, আর সেচ কাজের জ্বালানির দাম, শ্রমিক খরচ অধিক হওয়া, অন্যদিকে উৎপাদিত এ ধানের দাম কাক্সিক্ষত না হওয়ায় এমনটি হয়েছে। তারা বলেন, বোরো বাদ দিয়ে আমরা এখন অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছি। এই মৌসুমে গম, মসুরি চাষাবাদ বেড়েছে।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা জানান, ‘গ্রাউন্ড ওয়াটার’ বেশি ব্যবহারের ফলে গত কয়েক যুগ ধরে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। সেচের জন্য যদি কৃষক ভাইয়েরা ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করেন তাহলে হয়তো মাটির নিম্নস্তরের পানির লেভেল ঠিক থাকবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখন থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে চিন্তা করতে হবে। অন্যথায় বড় সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে ভবিষ্যতে।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক ড. হযরত আলী বলেন, এই মৌসুমে ধান করতে গেলে সম্পূর্ণ সেচের পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। দিন দিন পানির স্তর নেমে যাওয়া অবশ্যই কৃষির জন্য শঙ্কার। তবে, জেলায় বোরো ধানের আবাদ কমলেও অন্য ফসলের আবাদ বেড়েছে।
