হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুর প্রমাণ পায়নি পুলিশ

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:০২ এএম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ও বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল রয়েই গেছে। রহস্য উদঘাটন করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত শুরু করেছে। সিআইডি জানিয়েছে, হারিছ চৌধুরী মৃত্যুর কোনো প্রমাণ এখনো পায়নি তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তর ও সিআইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হারিছ চৌধুরীর পরিবার পরিকল্পনা করে একটি গুজব ছড়িয়েছে বলে মনে হচ্ছে। যাতে তার নামে থাকা ইন্টারপোলের রেড নোটিস প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের সিরিয়াস ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান জানান, চলতি মাসে হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুর বিষয়টি যাচাই করতে মাঠে নামে সিআইডি। দেশে থাকা তার স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা কেউ তার মৃত্যুর প্রমাণ দিতে পারেননি। সবাই অন্যের মুখে শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। নানাভাবে তদন্ত করেও হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুর খবর প্রকাশ পায় গণমাধ্যমে। এরপর ইন্টারপোল থেকে রেড নোটিস সরানোর জন্য পুলিশ নিজ উদ্যোগে একসময় প্রভাবশালী এ বিএনপি নেতার মৃত্যুর সত্যতা যাচাইয়ে মাঠে নামে। তার মৃত্যুর প্রমাণ জানার চেষ্টা করে পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)।

এনসিবি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সঙ্গে কাজ করে। কারও বিষয়ে রেড নোটিস জারি কিংবা প্রত্যাহারের বিষয়টিও এনসিবি তদারকি করে। তারা বলছে, রেড নোটিস প্রত্যাহারের আগে হারিছের মৃত্যুর সঠিক তথ্য প্রমাণ দরকার। পরে এনসিবি তার মৃত্যু বিষয় উদঘাটনের জন্য সিআইডিকে দ্রুত লিখিত তথ্য দিতে বলে। এরপরই সিআইডি তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবির সহকারী মহাপুলিশ পরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমরা দেখেছি হারিছ চৌধুরী মারা গেছেন। একজন মৃত মানুষের তো ইন্টারপোলে রেড নোটিস রয়েছে। আসলে তিনি কি মারা গেছেন, না নাটক। এ বিষয়ে পুলিশের অপারেশনাল ইউনিট সিআইডির কাছে সত্যতা জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সিআইডি এখনো পর্যন্ত তার মৃত্যুর কোনো তথ্য দিতে পারেনি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের ধারণা, এ গুজবটি তার পরিবার থেকে ছড়ানো হয়েছে, যাতে রেড নোটিস সরিয়ে ফেলা হয়। যতক্ষণ না পর্যন্ত মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত না হবে ততক্ষণ তার বিরুদ্ধে রেড নোটিস থাকবে।’

গত ১১ জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে হারিছ চৌধুরীর চাচাতো ভাই আশিক চৌধুরীর বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ও বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী যুক্তরাজ্যে মারা গেছেন। এরপর তার মেয়ের বরাত দিয়ে কেউ কেউ খবর প্রকাশ করে যে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলাসহ একাধিক মামলার অভিযুক্ত আসামি ছিলেন সিলেটের হারিছ চৌধুরী। ওই হামলার টার্গেট ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার পর হারিছ চৌধুরী গা ঢাকা দেন। ২১ আগস্ট হামলা মামলায় তিনি অভিযুক্ত হওয়ার পর ২০১৫ সালে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিস জারি হয়। ওই হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুদন্ডের রায় হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত