ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছে বিশে^র বেশিরভাগ পুঁজিবাজার। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার প্রধান প্রধান বাজারগুলো হারানো মূল্যসূচক কিছুটা পুনরুদ্ধার করতে দেখা গেছে। এমনকি রেকর্ড পতনের পর রাশিয়ার পুঁজিবাজারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে শুক্রবার। হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা জ্বালানি তেলের দরও একদিনে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭ ডলার কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। গত বৃহস্পতিবারের বড় পতনের পর বিশ্ববাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর পরিস্থিতিতে দেশের পুঁজিবাজারে নতুন করে দরপতনের শঙ্কা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে হামলা শুরু হলে বিশে^র অন্যান্য দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও বড় দরপতন দেখা দেয়। সেদিন বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি ১০৯ পয়েন্ট কমে যায়। এ যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ¦ালানি তেলের ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশের উৎপাদনমুখী খাত আরও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, এমন শঙ্কায় পুঁজিবাজার নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে গত শুক্রবার ইউক্রেনের সরকারের রাশিয়ার শর্ত মেনে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা বৈঠকের প্রস্তাব ও তাতে রাশিয়ার সায় দেওয়ার খবরে কিছুটা স্বস্তি নামে বিশে^। আলোচনার জন্য সম্ভাব্য তারিখ ও ভেন্যু ঠিক করা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলছে কিয়েভ। যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার এমন সম্ভাবনায় পুরো বিশে^র পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়।
ইউক্রেন-রাশিয়া সংকট ও দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ডিএসইর পরিচালক ও সাবেক ডিবিএ সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এমনিতেই গত কয়েক মাস ধরে আমাদের বাজার কিছুটা অস্থিরতায় রয়েছে। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে যুদ্ধ শুরুর খবরটি লেনদেন চালুর মধ্যে আসায় ওইদিন বড় দরপতন হয়েছিল। কিন্তু এ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে বলে মনে হচ্ছে না। ইতিমধ্যে সমঝোতার জন্য আলোচনায় বসার সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৈশি^ক পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত দেশগুলোর পুঁজিবাজার সূচকও বেড়েছে। আমাদের দেশেও দরপতনের প্রভাব কাটিয়ে ইতিবাচক ধারা তৈরি হবে বলে আশা করছি।
শরীফ আনোয়ার আরও বলেন, দুই বছর আগে করোনাভাইরাস মহামারীতে পড়ে নাকাল অর্থনীতি এখন ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশি কোম্পানির ওপর নেই। ফলে এ নিয়ে আমাদের বিনিয়োগকারীদের নতুন করে আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
এদিকে বৃহস্পতিবারের বড় পতনের পর শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং এশিয়ার বড় সব পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক সূচক ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ইউরোপের বাজারগুলোর শেয়ারদর। যুক্তরাজ্যের শেয়ারবাজার সূচক এফটিএসই ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ, ফ্রান্সের সিএসি সূচক ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ, জার্মানির শেয়ারবাজার সূচক ডিএএক্স ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়েছে। এশিয়ার বড় বাজারগুলোর মধ্যে হংকং ছাড়া বাকিগুলোর সূচক ১ থেকে প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বড় দরপতন হয়েছিল। এক দিনেই ৩৩ শতাংশ হারিয়েছিল এমওইএক্স সূচক। কিন্তু শুক্রবার ২০ শতাংশ বেড়েছে।
