১৩০ দেশের চলচ্চিত্র নিয়ে উৎসব

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:৩০ পিএম

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ১৬তম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসব। এই উৎসবের পর্দা নামবে আগামী ৪ মার্চ। মোট ৭টি ভেন্যু শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন, চিত্রশালা মিলনায়তন, সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তন এবং সেমিনার হল, ফিল্ম আর্কাইভের মূল মিলনায়তন, জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তন ও শাহবাগের বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্টারে উৎসবের ছবিগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে। উৎসব উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। ৪ মার্চ বিকেল ৪টায় উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদ।

এবারের মূল ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যশালা মিলনায়তন ও চিত্রশালা মিলনায়তনে। প্রতিদিন সকাল ১১টা, দুপুর ৩টা, বিকেল ৫টা ও সন্ধ্যা ৭টা মোট ৪টি করে প্রদর্শনী হবে। এছাড়া জাতীয় জাদুঘরের বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১ ও ২ মার্চ বিকেল ৪টা ও ৬টায় দুটি করে প্রদর্শনী হবে। বিশেষ এই প্রদর্শনী বাংলাদেশ প্যানোরোমা শিরোনামে আয়োজিত হবে। এখানে বাংলাদেশের বাছাইকৃত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে। একই ভেন্যুতে ২ মার্চ ভারতের বিশিষ্ট চিত্রগ্রাহক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা আর ভি রামানি এর রেট্রস্পেক্টিভ অনুষ্ঠিত হবে।

উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন নাট্যব্যক্তিত্ব ও চলচ্চিত্রকার নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, ‘এবারের উৎসবে ৩৮৬২টি চলচ্চিত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে থেকে বাছাই কমিটি ৪১৪টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত করেছেন। বিশ্বের ১৩০টি দেশের চলচ্চিত্র এবারের উৎসবে প্রদর্শিত হবে। এরমধ্যে বিশে^র গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব অস্কার, কান, সানড্যান্স, টিফ, ওবারহাওজেন, বার্লিন, লোকার্নো ও বুসান থেকে মোট ৭০টি চলচ্চিত্র নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র উৎসব থেকে সাম্প্রতিক সময়ের স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।’

উৎসবের পুরস্কার নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “উৎসবে ‘ইন্টারন্যাশনাল কমপিটিশন শর্ট ফিকশন’ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল কমপিটিশন শর্ট ডকুমেন্টারি’ বিভাগে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও আর্থিক সম্মাননা এক হাজার মার্কিন ডলার করে প্রদান করা হবে। তারেক শাহরিয়ার বেস্ট ইন্ডিপেনডেন্ট শর্ট সেকশনে বাংলাদেশি তরুণ প্রতিভাবান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের চলচ্চিত্র থেকে একটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকে নির্বাচিত করা হবে। পরিচালককে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও আর্থিক সম্মাননা পঁচিশ হাজার টাকা প্রদান করা হবে। এছাড়া প্রতিবারের মতো এবারও উৎসবে প্রদর্শিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলোকে মোট তিনটি পুরস্কার প্রদান করা হবে। সুস্থধারার চলচ্চিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য আন্দোলনে বিশেষ অবদান রাখায় সম্মানিত সুধীজনকে ‘হীরালাল সেন আজীবন সম্মাননা পুরস্কার’ প্রদান করা হবে। এ বছর আজীবন সম্মাননা যৌথভাবে পাচ্ছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও স্বল্পদৈর্ঘ্য আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তি মানযারে হাসিন মুরাদ ও তানভীর মোকাম্মেল।”

উৎসব পরিচালক সৈয়দ ইমরান হোসেন কিরমানী বলেন, ‘করোনা মহামারীর প্রকোপের জন্য আমরা উৎসবটি স্বল্প পরিসরে আয়োজন করেছি। প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশ সরকার উৎসব আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানগুলো উৎসবের ভেন্যু করা হয়েছে তাদেরও সহায়তা পেয়েছি।’

এই উৎসবের গুরুত্ব নিয়ে তিনি বলেন, “১৯৮৬ সালের আগস্ট মাসে ‘বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের একমাত্র স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্রকারদের সংগঠন। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম উপমহাদেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করে। বর্তমানে এই চলচ্চিত্র উৎসবটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উৎসব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বিগত ৩৪ বছর যাবৎ এই চলচ্চিত্র উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারের উৎসব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে। আমরা এবছর এই উৎসবটিকে দেশের বিভিন্ন বিভাগে নিয়ে যাব। যাতে করে ঢাকা শহরের বাইরের দর্শকরা বিশ্বমানের এই চলচ্চিত্রগুলো দেখতে পারেন। আগামী এক মাসের মধ্যে রাজশাহী ও চট্টগ্রামে এই চলচ্চিত্র উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে ট্রাভেলিং ফেস্টিভ্যাল শিরোনামে। চলচ্চিত্রের প্রচার, প্রসার ও তরুণ নির্মাতা-কলাকুশলীদের উৎসাহ দিতে এ ধরনের আয়োজনের বিকল্প নেই।” 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত