গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় একটি কেন্দ্রের বাইরে অস্থায়ী বুথ বসিয়ে টাকার বিনিময়ে করোনা টিকা দেওয়ার সময় দুজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছে জনতা। গতকাল শনিবার গণটিকা কর্মসূচির দিনে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের রঙ্গিলা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরে পুলিশ মুলাইদ গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৩০) ও পার্শ্ববর্তী কাপাসিয়া উপজেলার রানিগঞ্জ গ্রামের সুলতানা পারভিনকে (২০) আটক করে। তাদের কাছ থেকে ৭টি ভায়াল, ৫০টি সিরিঞ্জ ও টিকা বিক্রির কিছু টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে রঙ্গিলা বাজার এলাকায় একটি অস্থায়ী বুথ বসিয়ে শ্রমিকদের টিকা দিচ্ছিলেন দুজন। তাদের কাছ থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ করে টাকা নেওয়া হচ্ছিল। টিকা নেওয়ার পর কয়েকজন দ্বিতীয় ডোজের তারিখ এবং টাকা নেওয়ার প্রমাণপত্র চাইলে তারা গড়িমসি করেন। এ নিয়ে হট্টগোল দেখা দিলে অনেকে জড়ো হন। তারা খবর দিলে পুলিশ এসে তাদের আটক করে।
শ্রীপুর মডেল থানার এসআই কামরুল হাসান জানান, রঙ্গিলা বাজার এলাকায় গার্মেন্টস কল্যাণ ঐক্য ফোরাম নামে একটি অফিসে বসে টাকার বিনিময়ে টিকা দেওয়ার সময় স্থানীয়রা দুজনকে ধরে পুলিশে দেন। তাদের কাছে চারটি ব্যবহৃত ও তিনটি অব্যবহৃত ভায়াল, ৪৭টি সিরিঞ্জ ও কিছু টাকা পাওয়া যায়।
কয়েকজন শ্রমিক জানান, লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করার ভয়ে তারা টাকা দিয়ে টিকা নিতে আগ্রহী হন। কিন্তু লোকগুলো যে ভুয়া তা তারা জানতেন না।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকা সমন্বয় কর্মকর্তা মাজেদ সোহাগ বলেন, ‘কর্মীদের টিকা দেওয়া ও ফেরত নেওয়ার সময় হিসাব রাখা হয়। ফলে বাইরে টিকা দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে কেউ কেন্দ্রে আসা ব্যক্তিকে টিকা না দিয়ে ভায়াল আড়াল করলে ধরা মুশকিল।’
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রণয় ভূষণ দাস বলেন, ‘আটকরা কোথা থেকে টিকা পেয়েছেন তা খতিয়ে দেখা হবে।’
এদিকে গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকার বিনিময়ে করোনা টিকা দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে টাকা দিয়ে ভায়াল কিনে নিয়ে স্থানীয়দের কাছে বিক্রির সময় গত শুক্রবার মাওনার মসজিদ মোড় এলাকা থেকে নাছরিন আক্তার হাতেনাতে ধরা পড়েন। এ সময় নাছরিন জানান, হাসপাতালে অনেকের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে তিনি টিকার ভায়াল সংগ্রহ করেছেন। পরে দেলোয়ার হোসেন নামে একজনকে টিকা দেওয়ার সময় ধরা পড়লে তিনি ৩০০ টাকা ফেরত দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রীপুর পৌর শহরের মাওনা এলাকায় মসজিদ মোড়, বরমী ইউনিয়নের কাশিজুলি, দপ্তরিভিটা, ঠাকুরতলা, ভিটিপাড়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে টিকা দেওয়া হয়েছে। ভিটিপাড়ায় টিকা নেওয়া একাধিক ব্যক্তি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দূরে। কমিউনিটি ক্লিনিক পাশে হলেও সারাক্ষণ ভিড় থাকে। সারা দিন লাইনে থেকেও টিকা পাওয়া যায় না। স্থানীয় কয়েকজন কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করে বাড়িতে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। ভোগান্তি এড়াতে তারা টাকা দিয়ে টিকা নিয়েছেন।
