কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ছাত্রলীগের মারধরে’ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:৪৯ পিএম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা অনুষদ ছাত্রলীগের সভাপতি আবু নাঈম আব্দুল্লাহর নির্দেশে মো. ওয়ালিদ নিহাদ নামে লোকপ্রশাসনের এক ছাত্রকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার রাতে বঙ্গবন্ধু হলের তৃতীয় তলার ৩২৪ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে তাকে মারধর করা হয়।

এ সময় ওই ছাত্রলীগ নেতা ও তার অনুসারীরা ভুক্তভোগী ছাত্রকে ক্যাম্পাসছাড়া করার হুমকি দেন। তারা শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে রাজনীতি করার জন্য ফোর্স করেন তাকে।

মারধরের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর হাতে রামদা ধরিয়ে দিয়ে ভিডিও করেন; গলায় রামদা ধরিয়ে সরকার বিরোধী কথাবার্তা বলতে বাধ্য করেন; পরে ভুক্তভোগী ছাত্রের ফেসবুকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি আপলোড করতে বাধ্য করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী ছাত্রকে রাতেই ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয় পরে সকালের দিকে অসুস্থতা বেড়ে গেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্র প্রক্টর ও হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে তিনি ছাত্রলীগ নেতা আবু নাঈম আব্দুল্লাহ, তার অনুসারী সমাজবিজ্ঞান বিভাগের পলাশ, নাট্যকলা বিভাগের হিমেল, লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনাবিদ্যা বিভাগের তুহিন, মুমিন, অর্থনীতি বিভাগের তানভীরসহ আরও ৫-৬ জন ছাত্রের নাম উল্লেখ করেছেন।

শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ৭ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি নেন। পরে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট পৌঁছে দাবির বিষয়ে আলোচনায় বসেন।

প্রশাসনিক ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট মাসুম হাওলাদার বলেন, শিক্ষার্থীদের ৭ দফা দাবির মধ্যে হল সংশ্লিষ্ট যে বিষয়গুলো রয়েছে তা হল প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। এই বিষয়টি নিয়ে জরুরি মিটিং আহ্বান করা হয়েছে। আজ সোমবারই হল সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে এই মিটিং হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, অপরাধী যেই হোক কোনো ছাড় দেয়া হবে না। বিধি অনুযায়ী দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখানে অপরাধীর পরিচয় কিংবা অবস্থান বিবেচনায় নেয়া হবে না।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে ফোন করলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, যদি প্রমাণিত হয় এই ঘটনায় ছাত্রলীগের কেউ জড়িত তখন অবশ্যই তার বা তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৭ দফার মধ্যে রয়েছে- নিপীড়কের স্থায়ী বহিষ্কার, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা, হলের টর্চার সেল বন্ধ, নিহাদের যাবতীয় চিকিৎসা খরচ বিশ্ববিদ্যালয়কে বহন, র‍্যাগিং বন্ধের জন্য অ্যান্টি র‍্যাগিং সেল গঠন, সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং রাজনৈতিক অপতৎপরতা ও বাধ্য করার সংস্কৃতি বন্ধ করা।

নিহাদকে নির্যাতনের ঘটনার পর পরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও এমন অভিযোগ উঠে আসছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত