ইউক্রেনে সেনা পাঠাচ্ছে না বেলারুশ

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২২, ০৫:৪৯ পিএম

ইউক্রেনে চলমান রুশ সামরিক অভিযানে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ বেলারুশ অংশ নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কো। মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

এই দিন বেলারুশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুকাশেঙ্কো বলেন, ‘বেলারুশের সেনাবাহিনী ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে না এবং ভবিষ্যতে অংশ নেবে- এমন কোনো পরিকল্পনাও আপাতত সরকারের নেই’।

‘তাছাড়া, রাশিয়ার নেতৃত্বের সঙ্গে এ ব্যাপারে আমাদের কোনো কথা হয়নি। এখন পর্যন্ত তারা আমাদের কাছে সামরিক সহযোগিতাও চায় নি; আর আমরা মনে করছি, এই অভিযানে বেলারুশের অংশ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই’।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে উত্থান ঘটে ইউক্রেন, বেলারুশসহ ১৫টি রাষ্ট্রের। ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কে তিক্ততা থাকলেও বেলারুশের সঙ্গে শুরু থেকেই নিবিড় বন্ধুত্ব রয়েছে রাশিয়ার।

দীর্ঘ দুই মাস ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় ২ লাখ সেনা মোতায়েন রাখার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে দেশটির পূর্বাঞ্চলে সেনা অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন ভ্লাদিমির পুতিন। তার ভাষণ সম্প্রচারের পরপরই রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় এবং তড়িৎগতিতে ইউক্রেনের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পাশপাশি চতুর্দিক থেকে দেশটির ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করে রুশ সেনাবাহিনী। বর্তমানে বিভিন্ন শহরে রুশ বাহিনীর সঙ্গে ব্যাপক সংঘাত চলছে ইউক্রেনের সেনা বাহিনীর।

অভিযান শুরুর পর বিভিন্ন পাশ্চাত্য সংবাদমাধ্যমে প্রচার হয়েছিল, বেলারুশও এই অভিযানে রুশ বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেবে; কিন্তু দেশটির প্রেসিডেন্ট বুধবার সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেন।

তবে বেলারুশের ‘স্বৈরাচারী সরকার’ গত রবিবার তার অ-পারমাণবিক অবস্থা পরিত্যাগ করার জন্য ভোট দিয়েছে। এতে করে রাশিয়ার জন্য সেখানে পারমাণবিক অস্ত্র স্থাপনের পথ সুগম হলো।

এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও রবিবার বলেছিলেন, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো তাকে ফোন কলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে ইউক্রেনে সেনা পাঠানো হবে না।

ইউক্রেনে ষষ্ঠ দিনে পড়া রাশিয়ার সামরিক অভিযান নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পড়লেও রাজধানী কিয়েভ দখলে মরিয়া রুশ বাহিনী।

বিবিসি বলছে, রাশিয়ার একটি বিশাল সামরিক বহর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

স্যাটেলাইট কোম্পানি ম্যাক্সার টেকনোলজির প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সামরিক বহরটি প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ।

স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, স্থলবাহিনী এবং যুদ্ধ হেলিকপ্টার বেলারুশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থান করছে, যেটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ২০ মাইলের কম দূরত্বে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী রাজধানী কিয়েভের ওপর হামলা শুরু করেছে। কিয়েভসহ ইউক্রেনের সব প্রধান প্রধান শহরে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতায় সাইরেন বাজানো হচ্ছে।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে বিবিসির চিফ ইন্টারন্যাশনাল করেসপন্ডেন্ট লিস ডুসেট জানাচ্ছেন, রাশিয়ার বিশাল সামরিক বহর কিয়েভমুখী হবার কারণে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার সামরিক বহরের এই গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছে পুরো বিশ্ব।

খবর পাওয়া যাচ্ছে যে রাশিয়ার এই বিশাল সামরিক বহর এগিয়ে আসার পথে আরো বেশি শক্তি সঞ্চয় করছে।

কিয়েভ শহরের অনেকে আশঙ্কা করছেন রাশিয়ার সৈন্যরা ‘মধ্যযুগীয় কায়দায়’ শহরকে অবরোধ করে রাখবে। শহরের বাসিন্দাদের জন্য খাদ্য, পানি এবং জরুরি সরবরাহ বন্ধের আশংকা করা হচ্ছে।

রাশিয়া যখন ইউক্রেনে হামলা শুরু করে তখন ধারণা করা হয়েছিল শক্তিশালী রাশিয়া মাত্র কয়েকদিন কিংবা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কিয়েভ দখল করে নেবে।

কিন্তু হামলার পর পাঁচদিন অতিবাহিত হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা অস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এবং সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করেছে। অনেক সাধারণ মানুষ হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দিয়েছে।

একথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে রাশিয়ার সামরিক কনভয় যদি এক ইঞ্চি করেও অগ্রসর হয়, তাহলেও এটি কিয়েভের দিকেই আসছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত