নড়াইলে সড়ক দুর্ঘটনায় তীর্থযাত্রী দুই নারী নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে নড়াইল-লোহাগড়া সড়কের চৌগাছা-বুড়িখালী এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার সমসপুর-পায়রা গ্রামের সুফল মন্ডলের স্ত্রী মমতা (৫৫) ও হরিচাদ বিশ্বাসের স্ত্রী মিনা রানী বিশ^াস (৫৫)। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় মৌলভীবাজারে এক শিশু, সীতাকুন্ডে এক যুবক ও গোবিন্দগঞ্জে এক নারীর মারা গেছেন। পুলিশ ও আহতরা জানান, যশোরের অভয়নগর উপজেলার সমসপুর-পায়রা এলাকা থেকে ৩০-৩৫ তীর্থযাত্রী নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর তারক গোসাইয়ের বাড়িতে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। পথে নড়াইল-লোহাগড়া সড়কের বুড়িখালী-চৌগাছা এলাকায় পৌঁছলে নড়াইলগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় সিএনজিটি দুমড়েমুচড়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে মিনা রানীকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত মমতা ভর্তির কিছুক্ষণ পর মারা যান। গুরুতর আহত সমসপুর-পায়রা এলাকার অজিত মন্ডলের স্ত্রী নিন্দ্রা (৪৫), তারক মন্ডলের স্ত্রী দিপা (৩৫), বিকাশ মন্ডলের স্ত্রী অলোকা (৫০), শিবুপদ মন্ডলের স্ত্রী টুকু রানী ও দশরথ রায়ের স্ত্রী ঝর্ণা রায় ও সিএনজিচালক আশরাফকে (৪০) নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে অবস্থার অবনতি হলে সিএনজিচালক আশারাফকে (৪০) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
নড়াইল সদর থানার ওসি শওকত কবির বলেন, ‘বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজির দু’নারী যাত্রী নিহত হওয়ার খবর শোনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে একটি জিডি হয়েছে।’
এদিকে কোমলগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দ্রুতগতির একটি ইজিবাইকের (টমটম) চাপায় তানিয়া আক্তার নামে ৬ বছরের একটি শিশু মারা গেছে। তার বাবা সালেক মিয়া পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। গতকাল দুপুরে কমলগঞ্জ পৌরসভা এলাকার উত্তর আলেপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর আলেপুর এলাকার ইউনিয়ন ভূমি অফিস সড়কে দ্রুতবেগে ইজিবাইক চলাচল করে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় এ গ্রামের শিশু তানিয়া আক্তার বাড়ি থেকে দৌড়ে বের হলে দ্রুতগতির একটি ইজিবাইকের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। ইজিবাইক চালকসহ এলাকাবাসী শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
কমলগঞ্জ থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান বলেন, ‘এ নিয়ে থানায় এখনো কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তারপরও পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’
সীতাকুন্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানায়, সীতাকুন্ডে বেড়াতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় শরিফ আহমেদ (২৯) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার সদর থানার চরবৈতা গ্রামের মৃত রসিদ আহমেদের পুত্র। গতকাল বিকালে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শিয়ারীপোল এলাকার আমান উল্লাহ পেট্রলপাম্পের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
শরিফের বন্ধু আমিনুল ইসলামের বরাত দিয়ে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি নাজমুল হক জানান, বেড়ানোর উদ্দেশ্যে দুই বন্ধু মোটরসাইকেল নিয়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে সীতাকুন্ডের কুমিরা ঘাটঘরে যাচ্ছিলেন। আমান উল্লাহ ফিলিং স্টেশনের সামনে এলে পেছন থেকে একটি তেলবাহী গাড়ি তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে মহাসড়কে পড়ে গিয়ে শরিফ আহমেদ দুর্ঘটনাস্থলে মারা যান। তিনি চট্টগ্রাম শহরের ‘খুলশী মার্ট’ নামের একটি সুপার শপে সুপারভাইজার পদে চাকরি করতেন।
তেলবাহী গাড়ি ও মোটরসাইকেলটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে বলে ওসি নাজমুল হক জানান।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে গিয়ে রুপালি রানী (২৮) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। গতকাল বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা-রংপুর জাতীয় মহাসড়কের চাপড়ীগঞ্জ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও সাত যাত্রী আহত হয়েছেন। রুপালি রানী গোবিন্দগঞ্জের সাপমারা ইউনিয়নের চকরহিমাপুর মাদারগঞ্জ গ্রামের সুজন চন্দ্র শীলের স্ত্রী। আহতরা হলেন গোবিন্দগঞ্জের রাখালবুরুজ ইউনিয়নের কাজিরচক গ্রামের রোকেয়া বেগম (৫০), একই গ্রামের মো. শামীম (১৯) ও বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের দক্ষিণ ভান গ্রামের আহাদ (১৮)।
গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার এসআই মো. ফজলুর রহমান জানান, রংপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া রাজশাহীগামী দ্রুতগামী দুটি যাত্রীবাহী বাস প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যাচ্ছিল। এসময় ওভারটেকিং করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরদার পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার পাশে উল্টে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়। ঘটনার পর বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় মামলা হবে বলেও জানান তিনি।
