বিকাল ৩টায় অনুশীলনে আফগানিস্তান দল। ক্রিকেটাররা যে যার মতো অ্যাকাডেমি মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সবাইকে হারিয়ে প্রথম হলেন রশিদ খান। এগিয়ে যাচ্ছেন নেটের দিকে। কিন্তু একি! তার হাতে বল নয় আছে ব্যাট-প্যাড। সতীর্থরা ওয়ার্ম আপের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়টায় টানা ১৫ মিনিট থ্রোয়ারকে নিয়ে করে গেলেন ব্যাটিং অনুশীলন। বিশেষ করে তার উদ্ভাবিত ‘পিঞ্চ হেলিকপ্টার শট’। তৃতীয় ওয়ানডেতে ২৯ রানের ইনিংসে মোস্তাফিজুর রহমানকে ওই শটে ছক্কা মেরেছিলেন রশিদ। পিএসএলেও দেখা গেছে রশিদের এই শট। রশিদ খানের স্পিন এমনিতেই বাংলাদেশের জন্য সবসময়ের চিন্তা। সঙ্গে যোগ হয়েছে তার নতুন ভূমিকা, মানে ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠা এবং ওই পিঞ্চ হেলিকপ্টার শট। তবে ব্যাটসম্যান রশিদের চেয়েও বাংলাদেশের চিন্তা নিজেদের ব্যাটসম্যান নিয়ে। টি-টোয়েন্টিতে শুরু থেকেই যে এই ব্যাটিংয়ের ওপেনিং নিয়ে গ-গোল বাংলাদেশের।
দেশের মাটিতে গত কিছু সিরিজে ফেভারিট হয়েই নেমেছে মাহমুদউল্লাহর দল। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বিশ্বকাপের আগের সিরিজের প্রথম ম্যাচ জয়ের পর থেকেই তারা ফেভারিট। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে পরের সিরিজের আগেই যেন জয় ধরা দিয়েছিল মাহমুদউল্লাহদের। এরপর পাকিস্তানের সঙ্গে নিজেদের মাঠের শক্তি ছিল। কিন্তু টি-টোয়েন্টির শক্তিধরদের সঙ্গে পেরে ওঠা যায়নি। এবার যে সব থেকেও কিছু নেই বাংলাদেশের। নিজেদের মাঠ, ওয়ানডে সিরিজ জয় তবুও টি-টোয়েন্টির আগে সাহস নিয়ে বলা যাচ্ছে না আমরাই জিতব। মাহমুদউল্লাহ অবশ্য গতানুগতিক বিশ্বাসেই আত্মবিশ্বাস জোগাতে চাইছেন, ‘আশা তো অবশ্যই জেতার। আমি সবসময় বলি, টি-টোয়েন্টি এমন একটা ফরম্যাট যেকোনো দিন যেকোনো দল জিততে পারে। আপনি এক নম্বর দলের বিপক্ষে খেলুন আর ১০-১২ নম্বর, একটি পার্টনারশিপ ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। ওয়ানডে ও টেস্টে কামব্যাক করার সময় পাওয়া যায়। টি-টোয়েন্টি যায় না। যা করার সঙ্গে সঙ্গেই করতে হবে।’ এর মানে ম্যাচের শুরুতেই। বোলিংয়ে সামাল দেওয়ার জন্য মোস্তাফিজ আছেন, মাঝ ওভারে সাকিব আল হাসান আছেন। শুরুতে মোস্তাফিজের সঙ্গে নাসুমও দুর্দান্ত টি-টোয়েন্টি বোলার কিন্তু ব্যাটিংয়ে হাল ধরবে কে? মাহমুদউল্লাহ এই ব্যাটিংয়ের শুরুতেই নজর দিচ্ছেন, ‘আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আমরা কালকের (আজকের) ম্যাচটা ফোকাস করছি। আমাদের শুরুটা নিয়ে আমরা ফোকাস করছি।’
শুরুটা ভালো করতে চাইলে ওপেনারদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। টি-টোয়েন্টিতে দায়িত্ব নিয়ে সাহসী ব্যাটিং করার মতো ওপেনার অবশ্য চলে এসেছেন। বিপিএল দিয়েই নিজের আগমন জানান দিয়েছেন মুনিম শাহরিয়ার। আজ জাতীয় দলে তার অভিষেক হবে কি না সেই প্রশ্নে ব্যাকফুটে মাহমুদউল্লাহ। তবে শুরুতে ভালো কিছু করতে হলে লিটন দাশের সঙ্গে মুনিমের বিকল্প নেই, ‘মুনিমের ভালো সুযোগ আছে কাল। এখন নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না, আমরা উইকেটটা আজ দেখলাম। আমরা পরিকল্পনা করব আমাদের ব্যাটিং অর্ডারটা আমরা কীভাবে সাজাতে চাই।’ তবে শুধু শুরুর তিনে নজর দিতে নারাজ মাহমুদউল্লাহ। ভালো করতে হলে পুরো ব্যাটিং অর্ডারকেই হাল ধরতে হবে বলে জানান, ‘শুধু টপ অর্ডার নিয়ে পরিকল্পনা করলেই হবে না, গোটা ব্যাটিং ইউনিট আমাদের ভালো করতে হবে। কোনোদিন টপ অর্ডার ভালো শুরু করবে না, মিডল অর্ডার সেটা ক্যারি করবে, টপ অর্ডার ভালো শুরু করলে মিডল অর্ডার বিল্ডআপ করতে হবে। তো আমার মনে হয় এটা টোটাল টিম গেম টি-টোয়েন্টিতে ধারাবাহিকতা অনেক কঠিন। তবে টিম হিসেবে আমরা যদি খেলতে পারি তবে আমাদের ভালো সুযোগ আছে।’
শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের হিসাব ধরলে নাঈম শেখ অটোমেটিক চয়েজ। কিন্তু বিপিএলে নাঈম যে অবস্থায় পড়েছেন তাতে এই ব্যাটসম্যানের আত্মবিশ্বাস তলানিতে। তবুও নাঈমের সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি বলে জানিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। এদিকে মুশফিকের হাতে ব্যাথার কারণে ব্যাকআপ হিসেবে গতকাল রাতে দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন নুরুল হাসান সোহান।
আফগানিস্তানকে হারানোর ছক হতে পারে উইকেটে। কিন্তু বরাবরের মতো ঘূর্ণি উইকেট বানিয়ে লাভ নেই এবার। মিরপুরের তিন নম্বর উইকেটটায় রান হয়। আজ ম্যাচ হবে এখানেই। পেস সহায়ক উইকেট বানিয়ে ওয়ানডেতে প্রথম দুই ম্যাচে জয় এসেছে। টি-টোয়েন্টিতেও সেই পথে হাঁটার আশা করছেন মাহমুদউল্লাহ।
