স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড ও উইন্ডিজের ম্যাচ দিয়ে নারীদের দ্বাদশ ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে আজ। বাংলাদেশ নারীরা নামবে কাল ভোরে। এই আসর নিগার সুলতানা জ্যোতিদের জন্য এমনিতেই স্মরণীয়। এবার যে তাদের প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এবার ইতিহাসকে আরেক ধাপ বাড়িয়ে নেওয়ার পালা। সেই লক্ষ্য নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে কাল ভোর ৪টায় মাঠে নামছেন জ্যোতিরা। ৭ দলের বিপক্ষে ৭ ম্যাচে অন্তত একটি জয় নারীদের প্রথম বিশ্বকাপের উপলক্ষ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে।
ডানেডিনের ইউনিভার্সিটি ওভালে বাংলাদেশের ম্যাচ দিনের আলোয়। প্রতিপক্ষ প্রোটিয়ারা জ্যোতিদের জন্য অচেনা নয়। ২০১২ থেকে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে চারবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ২০১২ ও ২০১৪তে তিন ম্যাচ করে আর ২০১৭ ও ২০১৮তে পাঁচ ম্যাচ করে। মোট ১৬ ম্যাচে বাংলাদেশের সাফল্য মাত্র দুটি জয়। ২০১২ ও ২০১৭তে ঘরের মাঠের দুটি জয় জ্যোতিদের প্রেরণা হবে অবশ্যই। এর সঙ্গে গত বছর প্রোটিয়া ইমার্জিং দলের বিপক্ষে ৪-০তে ৫ ম্যাচের সিরিজ জয়ও বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে নারী দলকে। তবে নিউজিল্যান্ডের সিমিং কন্ডিশন এশিয়ান দলগুলোর জন্য বরাবরই চ্যালেঞ্জিং।
বাংলাদেশ নারী দলের জন্য এই চ্যালেঞ্জ নেওয়া অসম্ভব নয়। প্রস্তুতি ম্যাচ ভালো করে আত্মবিশ্বাস নিয়ে রেখেছেন জ্যোতিরা। সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের সঙ্গে প্রস্তুতিটা ভালো না হলেও পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো লড়াই করেছেন পিংকীরা। মাত্র ৭ রানে হেরেছেন। অধিনায়ক জ্যোতি পাকিস্তান ম্যাচের মতো সব বিভাগেই ভালো করতে চান মূল পর্বে, ‘আমাদের ভালো বোলিং ও ব্যাটিং ইউনিট আছে। কিন্তু আমার মনে হয় সবাই জানে আমাদের বোলিং ইউনিট বেশি ভালো। আমরা আমাদের শক্তির জায়গাটা কাজে লাগিয়ে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করব।’
জ্যোতির কাছে এই দল সেরা। তাই সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়ে প্রথম বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দু’হাতে লুফে নিতে চান। বিশ্বকাপে ভালো করে দেশের নারী ক্রিকেটে প্রভাব রাখতে চান তিনি, ‘এটা আমাদের সেরা স্কোয়াড। আমাদের বিশ্বকাপে আসতেই হতো। কারণ চারটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেললেও ওয়ানডেতে একটাও পারিনি। আমার মনে হয় এটা বড় সুযোগ দেখানোর আমরা বিশ্বের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি। আপনারা যেমন দেখেছেন, আমরা এটার জন্য অনেক কষ্ট করেছি। আমাদের প্রথম বিশ্বকাপ এটা, আমার মনে হয় এখানে যদি আমরা ভালো করতে পারি এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটে দারুণ প্রভাব রাখবে।’
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে চোটের দুঃসংবাদ আছে বাংলাদেশ শিবিরে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচে ফিল্ডিং করতে গিয়ে ডান হাতে চোট পান পেসার জাহানারা আলম। ওই ম্যাচে ৪ ওভারের পর আর বল করেননি। খেলেননি পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচেও। টিম ম্যানেজমেন্ট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার জন্য অপেক্ষা করতে চায়। ডান হাতি পেসারকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চায় না বাংলাদেশ।
