৩৫ খণ্ডে সৈয়দ শামসুল হকের রচনাসমগ্র প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্য। গতকাল বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলায় এসেছে এটি। ১৯ হাজার ১১২ পৃষ্ঠার এই রচনাসমগ্র প্রকাশ করে বাংলা প্রকাশনা জগতের ইতিহাসে ঐতিহ্য নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন সৈয়দ হকের ছেলে দ্বিতীয় সৈয়দ হক। তিনি বলেন, ‘বাবা সব সময় লেখার মধ্যে ছিলেন, মানুষের পক্ষে ছিলেন।’
এই রচনাসমগ্রের দুটি সংস্করণ রয়েছে বলে জানায় ঐতিহ্য। নিয়মিত সংস্করণের মূল্য ৩৬ হাজার টাকা আর রেক্সিন সংস্করণের মূল্য ৪০ হাজার টাকা। ঐতিহ্য’র প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান নাইম বলেন, ‘এর আগে রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর, শরৎচন্দ্র, মানিক, বিভূতি, জীবনানন্দ, প্রমথ চৌধুরী, আল মাহমুদ, রশীদ করীম রচনাবলির ধারাবাহিকতায় ঐতিহ্য এবার সৈয়দ শামসুল হক রচনাসমগ্র প্রকাশ করেছে। আয়তনের বিশালতায় এবং বিষয়ের বৈচিত্র্যে এই রচনাসমগ্র বাংলা সাহিত্য এবং বাংলা প্রকাশনা জগতের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।’
মেলায় ঘুরে দেখা যায়, আরও কয়েকটি রচনাবলি এবারের মেলায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। এবারের মেলায় প্রকাশিত রচনাবলির মধ্যে প্রকাশনী সংস্থা ‘সময়’ এনেছে মুনতাসীর মামুনের বঙ্গবন্ধুসমগ্র (১ম ও ২য় খণ্ড), আগামী এনেছে মোনায়েম সরকারের রচনাবলি ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ’, নালন্দা এনেছে দুই খণ্ডে জিয়া হায়দারের ‘নাটকসমগ্র’। গত বছর বইমেলায় পাঠক সমাবেশ এনেছে সাহাদাত পারভেজের সম্পাদনায় গোলাম কাসেম ড্যাডিকে নিয়ে গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘ড্যাডিসমগ্র’। এবার মেলায় বইটির চতুর্থ খণ্ড প্রকাশের কথা রয়েছে। এ ছাড়া মহাদেব সাহার রচনাসমগ্রও মেলায় প্রকাশ হবে বলে জানা গেছে। রচনাসমগ্র অনেক বেশি দাম হওয়ায় সাধারণের পাঠকের ক্রয় তালিকার বাইরে থাকলেও অনেকেরই আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে এসব রচনাবলি। আরিফুর রহমান নাইম বলেন, ‘রচনাবলির দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই বইমেলায় না কিনলেও পরে সংগ্রহ করেন।’
গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল বইমেলার ১৭তম দিন। মেলা চলে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এদিন নতুন বই এসেছে ১০৮টি। এ ছাড়া ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন মারুফ রায়হান ও টোকন ঠাকুর। মেলায় বিভিন্ন স্টলের বিক্রয়কর্মী জানান, গত দুদিন ধরে অন্যান্য দিনের চেয়ে বই বিক্রির ধারাবাহিকতা কিছুটা কমেছে। প্রকাশকরা জানান, শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন এবং ৭ মার্চে ভালো বিক্রি হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।
মূল মঞ্চ : বিকেল ৪টায় মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ : মোহাম্মদ আবদুল কাইউম ও বশীর আল্হেলাল’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসান হাফিজ। আলোচনায় অংশ নেন মো. মুমিত আল রশিদ ও পারভেজ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন মোরশেদ শফিউল হাসান।
অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি জরিনা আখতার ও রহিমা আখতার কল্পনা। সংগীত পরিবেশন করেন খায়রুল আনাম শাকিল, লীনা তাপসী খান, সাজেদ আকবর, সালমা আকবর, কামাল আহমেদ, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, শাহনাজ নাসরিন ইলা, মো. হারুনুর রশিদ এবং সুমন মজুমদার। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বিশ্বজিৎ সরকার (তবলা), রবিনস চৌধুরী (কি-বোর্ড), নাজমুল আলম খান (মন্দিরা) এবং মো. মনিরুজ্জামান (বাঁশি)।
আজ মেলায় থাকবে শিশুপ্রহর : আজ শুক্রবার বইমেলার ১৮তম দিন। মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয়েছে। এই পর্বে শিশুদের প্রিয় সিসিমপুরের ইকরি, টুকটুকি, শিকু ও হালুমের সঙ্গে আনন্দ করবে শিশুরা। পরে বিকেল ৪টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ : গাজীউল হক ও সিকান্দার আবু জাফর’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন নাসির আহমেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন আলফ্রেড খোকন ও তারেক রেজা। সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
