থানায় কনস্টেবলের লাথিতে নারীর গর্ভপাত!

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২২, ০২:১৯ এএম

গাজীপুরে থানার ভেতরে কনস্টেবলের লাথিতে মামলার বাদী এক নারীর গর্ভপাত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাশিমপুর থানায় এ ঘটনা ঘটলেও গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

লাবণী আক্তার (২৩) নামে গুরুতর অসুস্থ ওই নারী গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন। তিনি কাশিমপুরের সারদাগঞ্জের ছান্দা এলাকার আবদুল হামিদ লাবুর মেয়ে। ঘটনার সময় লাবণী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গর্ভপাতের বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা তাকে হুমকি-ধমকি দেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লাবণীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার স্বামী সরকারি চাকরিজীবী। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা একটি মামলার বাদী তিনি। মামলার সাক্ষীর নাম-পরিচয় দিতে গত মঙ্গলবার দুপুরে তাকে থানায় যেতে বলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহবুব। তিনি থানায় যাওয়ার পর নারী কনস্টেবল রুমা আক্তারের কাছে সাক্ষীর নাম-ঠিকানা দিয়ে যেতে বলেন। কনস্টেবল রুমার কাছে গেলে তিনি শুধু সাক্ষীদের নাম লিখে রেখে তাকে চলে যেতে বলেন। তখন লাবণী সাক্ষীদের বাবার নামসহ পুরো ঠিকানা লেখার জন্য কনস্টেবল রুমাকে অনুরোধ করেন। এতে রুমা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন। লাবণী এর প্রতিবাদ জানালে কনস্টেবল রুমা তার গালে থাপ্পড় মারেন। এর প্রতিবাদ করলে কনস্টেবল রুমা বলেন, ‘তোর শিক্ষা হয়নি, এখন তোকে ছেঁচব’। এরপর তেড়ে এসে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। তিনি চেয়ারের ওপর পড়ে গেলে নাক ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। পরে তিনি উঠে দাঁড়ালে রুমা বুট পায়ে পেটে লাথি দিয়ে দেয়ালের সঙ্গে হাঁটু দিয়ে আটকে রেখে ইচ্ছামতো সারা শরীরে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এ সময় সেখানে কয়েকজন পুলিশ থাকলেও তারা সাহায্যে এগিয়ে না এসে উল্টো হাসিঠাট্টা করতে থাকেন।

লাবণী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাকে মারধর করতে থাকলে আমি রুমার হাত ধরে রাখি। এ সময় অন্য কনস্টেবলরা আমার ছবি তুলতে থাকেন। কেউ কনস্টেবল রুমাকে থামাতে আসেননি।’ একপর্যায়ে এসআই মাহবুব ঘটনাস্থলে এসে বলেন, ‘যা হওয়ার হয়ে গেছে, কাউকে কিছু জানাবেন না। সন্ধ্যায় ওসি স্যার এলে সমাধান করে দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাসায় আসার পর প্রচণ্ড পেটব্যথা শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর রক্ষপাত শুরু হলে দ্রুত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হাসপাতালে এসে ভর্তি হই। রাতেই ডাক্তার পরীক্ষা করে জানান আমার সন্তান ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘটনার পর অনেকবার এসআই মাহবুব, থানার ওসি ও পরিদর্শক (তদন্ত) ফোন করলেও ফোন রিসিভ করিনি। আজ (গতকাল বৃহস্পতিবার) চিকিৎসক জানিয়েছেন, আঘাতে আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত রক্তপাত বন্ধ হয়নি।’ গর্ভপাতের ঘটনায় মামলা করবেন বলেও জানান লাবণী।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাশিমপুর থানার ওসি মাহবুবে খোদার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই মাববুব বলেন, ‘একটি ঘটনা ঘটেছে শুনেছি। মোবাইলে সব বলা যাবে না। থানায় আসেন।’

থানাটির পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘লাবণী একজন মামলাবাজ। থানায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সিসিটিভির ফুটেজ দেখলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। শুনেছি ওই মহিলা ৫টি মামলার বাদী। নিরাপত্তার কথা ভেবে একজন নারী কনস্টেবলকে হাসপাতালে ওই মহিলার কাছে মোতায়েন করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত