দর্শকদের মনভরে গান শোনাব

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২২, ১০:৩০ পিএম

প্রায় চার বছর পর একক সংগীতানুষ্ঠানে গাইবেন জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী অণিমা রায়। আজ বিকেল ৫টায় জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে হবে অনুষ্ঠানটি। সম্প্রতি প্লেব্যাক করেছেন চারটি চলচ্চিত্রে। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

একক সংগীতানুষ্ঠান...

করোনার কারণে সেভাবে অনুষ্ঠানই তো হয়নি অনেক দিন। তারও দু-বছর আগে একক সংগীতানুষ্ঠান করেছিলাম। প্রায় চার বছর পর দর্শকদের সরাসরি মনভরে গান শোনাব। বিষয়টি ভাবতেই ভালো লাগছে। অনেকেই দেখা হলে কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুরোধ করে সরাসরি গান শোনার জন্য। তারা আজ চলে আসতে পারেন। দেড়-দুই ঘণ্টা টানা সংগীত পরিবেশন করব। শুরু করব রবীন্দ্রনাথের স্বদেশ পর্বের গান দিয়ে। এরপর বসন্তের গান, প্রেম ও পূজা পর্যায়ের গান করব। আমার গানের স্কুল ‘সুর বিহার’-এর সিনিয়র শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জাতীয় সংগীত দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করব। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করছে ‘আমরা সূর্যমুখী’ সংগঠন। তাদের কৃতজ্ঞতা জানাই এজন্য, পৃথিবীর এই দুর্যোগময় সময়ে রবীন্দ্রনাথের গানকে বেছে নেওয়ার জন্য। আমরা সুন্দর সময়ের অপেক্ষা করছি। বিশ^কবির গানের মাধ্যমে শান্তির বারতা পৌঁছে দেওয়ার বিকল্প নেই।

প্লেব্যাক...

রবীন্দ্রসংগীতশিল্পীর জন্য আমাদের দেশে প্লেব্যাক করা খুব কঠিন। কারণ আমাদের সিনেমায় রবীন্দ্রনাথের গান কিংবা পঞ্চকবির গান ব্যবহার হয় না বললেই চলে। তাই আমার প্লেব্যাকের যাত্রা শুরু হয় কলকাতার একটি সিনেমার মাধ্যমে। সেখানে সুযোগ পেলেই সাহিত্যের প্রধান কবিদের গান ব্যবহার করা হয়। তার পরও আমি ভাগ্যবান যে, এখন আমাদের দেশেও অল্প-বিস্তর কাজের সুযোগ পাচ্ছি। সম্প্রতি চারটি সিনেমায় প্লেব্যাক করেছি। এরই মধ্যে রয়েছে আফজাল হোসেনের ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’, অরুণা বিশ্বাসের ‘অসম্ভব’, আবদুস সামাদের ‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’ এবং ইমপ্রেস টেলিফিল্মসের ‘ভালোবাসার প্রজাপতি’ ছবিগুলো। আমি চাই আমাদের সিনেমায়ও যেন পঞ্চকবির গানের ব্যবহার বাড়ে। এতে সিনেমার মানটাই তো একধাপ উচ্চতায় উঠে যায়। কারণ এমন এক শ্রেণির দর্শক-শ্রোতারা আছেন, যাদের হয়তো সিনেমা সেভাবে টানে না। কিন্তু পঞ্চকবির গান ব্যবহার হয়েছে শুনলে তারা সিনেমাটি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে যাবে। এর ফলে সিনেমা হবে সর্বজনীন।

তানভীর তারেকের কম্পোজিশনে...

‘মানিকের লাল কাঁকড়া’ সিনেমার গানটি কম্পোজিশন করেছেন তানভীর তারেক। তার সংগীতায়োজনে এই প্রথম সিনেমার গান করলাম। সে আমার স্বামী বলে বলছি না, সত্যি রবীন্দ্রনাথের গান সে খুবই যত্ন নিয়ে করে। একসঙ্গে কাজ না করলেই বুঝতামই না আমার ঘরেই এমন একজন মেধাবী মানুষ আছে যার সঙ্গে আমি আরও বেশি কোলাবোরেশন করতে পারি। কারণ সে ওয়েস্টার্ন মিউজিক চর্চা করে। কিন্তু এখন আমি অনুধাবন করি, রবীন্দ্রনাথের গান এতটাই আধুনিক যে, তার সঙ্গে অতিরঞ্জিত কোনো কিছু ছাড়াই দিব্যি ওয়েস্টার্ন ইন্সট্রুমেন্ট ব্যবহার করা যায়। আমি সব সময় চেয়েছে আমার সময়ের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথকে ধারণ করতে। তাই তো আমার গানগুলোতে রবীন্দ্রনাথের বাণী ও সুর ঠিক রেখে আধুনিক মিউজিক কম্পোজিশন করে থাকি। এ ধরনের কাজ কলকাতায় দারুণ হয়। এজন্য সেখানে গিয়েও আমি নিজের গানের কাজ করিয়েছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত