গতকাল কুস্তির দৃশ্য ধারণের মধ্য দিয়েই শেষ হলো ‘কুস্তিগির’ সিনেমার শুটিং। ছবিটিতে কুস্তিগির এর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বাপ্পি চৌধুরী। তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন জাহারা মিতু। আবহমান বাংলার অন্যতম ঐতিহ্য হচ্ছে কুস্তি খেলা। একসময় গ্রামীণ জনসাধারণের অবসরযাপন ও চিত্তবিনোদনের অন্যতম খোরাক এই খেলা। সময়ের পরিক্রমায় এ খেলা এখন অতীত প্রায়। গ্রামে গঞ্জে এই কুস্তি খেলার আয়োজন এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। এই কুস্তিখেলার গল্প নিয়েই ছবিটি নির্মাণ করলেন পরিচালক শাহীন সুমন।
শাহীন সুমন জানালেন, ‘গত ২২ ডিসেম্বর গাজীপুরে ছবিটির শুটিং হয়। আর গতকাল কুমিল্লাতে এর ক্যামেরা ক্লোজ করলাম। আমার শুটিংয়ের পাশাপাশি ছবিটির এডিটিংয়ের কাজও এগিয়ে নিয়েছি। । এ মাসের মধ্যেই ছবিটি সেন্সরে জমা দেওয়া হবে। আমার মুক্তি দেবো খুব দ্রুত।’
এর আগে গত ২২ডিসেম্বর গাজীপুরের হোতাপাড়ায় শুরু হয় ‘কুস্তিগির’ ছবির শুটিং। পরে নরসিংদীতেও হয় এই ছবির শুটিং। সব শেষ শুটিং হলো কুমিল্লায়। পরিচালক জানালেন, কুস্তির দৃশ্য ধারণ হয়। কুস্তি ফাইটের নির্দেশনা দিয়েছেন ফাইট ডিরেক্টর চুন্নু। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিত হয়ে এ সময়। মানুষের মিলন মেলার মধ্য দিয়েই আমরা কুস্তি দৃশ্যের শুটিং করি।’
এই ছবির মাধ্যমে দশ বছর পর শাহীন সুমনের নির্মাণে কাজ করলেন বাপ্পী। এই পরিচালকের ‘ভালোবাসার রঙ’ নামে ছবির মাধ্যমে বাপ্পির অভিষেক হয়েছিল এই নায়কের।
বাপ্পি বলেন, শাহীন সুমন ভাইকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। দারুণ একটি ছবি নির্মাণ করলেন তিনি। পুরোপুরি কমার্শিয়াল সিনেমা এটি। রোমান্স, পারিবারিক টানাপোড়েন, কুস্তি সবাই থাকছে এতে। ছবিটিতে নিজেকে কুস্তিগীরে মতো করেই হাজির করতে যা যা দরকার সে সব প্রস্তুতি নিয়েছিলাম আমি। কিছুটা মোটাসোটাও হয়েছিলাম।’
ছবিটি করার অভিজ্ঞতা জানিয়ে মিতু বলেন, ‘এই ছবিটি করতে এসে আমার দারুণ কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শাহীন ভাইয়ের মতো ডিরেক্টরের সঙ্গে কাজ করা, মিশা সওদাগর ভাইয়ের সঙ্গে এক ফ্রেমে অভিনয় করা। আর নায়ক হিসেবে বাপ্পি তো আছেনই। দারুণ একটি কমার্শিয়াল মুভি হয়েছে এটি। দর্শকেরা পুরোপুরি বিনোদিত হতে পারবেন বলে আমি আশাবাদী।’
‘কুস্তিগির’ ছবিটির কাহিনি ও চিত্রনাট্য করেছেন সঞ্জয় কান্ত। এতে সাঞ্জু জনকেও কুস্তিগিরের ভূমিকায় দেখা যাবে। থাকবেন মিশা সওদাগরও।
