অশোক সাহানের পরিচয় ঠিক এক শব্দে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে সবচেয়ে বড় পরিচয় বোধ করি সংগত হবে, যদি বলা হয় ভারতের মারাঠি নব সাহিত্য জাগরণের সূচনা হলে ষাটের দশকে মারাঠি লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন অশোক সাহানে। সেই সময় প্রথম মারাঠি লিটল ম্যাগাজিনটি বের করে বেশ হইচই ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। কাগজটার নাম ছিল অথর্ব । অবশ্য একটিমাত্র সংখ্যা বের হওয়ার পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। তার বছরখানেক পর ১৯৬২ সালে আরেকটি কাগজ বের করেন অশোক সাহানে, এটির নাম ছিল অসো, মানে ‘থাক’। আর সব লিটল ম্যাগাজিনের মতোই এটির আয়ুষ্কাল মাত্র দুবছর হলেও সাহিত্যবোদ্ধা পাঠকদের মনে বেশ দাগ কেটেছিল কাগজটা, আর সে দাগ এখনো মুছে যায়নি। কাগজটা বের করার পর এমন হইচই পড়ে গিয়েছিল যে পুনেতে এমনও বলা হয়েছিল যে অশোক সাহানের হাত কেটে দেওয়া উচিত। সে কারণেই মুম্বাইয়ের এপ্রান্ত-ওপ্রান্ত মিলিয়ে অশোক সাহানের অনেক ভক্ত। তার সঙ্গে একান্তে গল্প করে তার বঙ্কিম রসিকতা আর ক্ষুরধার বিশ্লেষণক্ষমতার রসাস্বাদন করার জন্য বহু লেখক-সাংবাদিক প্রায়শই ঢুঁ মারেন এশিয়াটিক সোসাইটির জ্ঞানগম্ভীর কুতুবখানাটিতে। এদের অনেকেই মনে করেন যে মারাঠি সাহিত্য অশোক সাহানের কাছ থেকে আরও অনেক কিছু আদায় করে নিতে পারত। কিন্তু অশোক সাহানের প্রখর আত্মসম্মানবোধ ও নিভৃতচারী স্বভাবের কারণে তিনি যেমন সব সময় নিজেকে গুটিয়ে রাখেন, তেমনি মুম্বাই অথবা পুনেকেন্দ্রিক সাহিত্য পরিমন্ডলও তাকে হয়তো যথার্থ সম্মান ও স্বীকৃতি দিতে কার্পণ্য করেছে কিংবা যথাযথ ব্যবহার করতে পারেনি তার প্রতিভাকে।
অন্যান্য ভাষার মতো মারাঠি সাহিত্যের রেনেসাঁও শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। অশোক সাহানের মতে, এই নবজাগরণের পুরোধা ছিলেন কবি মারধেকার। তার লেখা কবিতাগুলো তার পূর্বসূরি কবিদের পুরনো করে এক পাশে ঠেলে দিয়েছিল। তার পরের প্রজন্মের কবিদের মধ্যে অরুণ কোলাৎকার, দিলীপ চিত্রে প্রমুখ এ ধারাকে টেনে নিয়ে যান। তাদের পরে আসেন বালচন্দ্র নেমেড়ে প্রমুখ সাহিত্যিক। এ সময়কার আরও কয়েকজন হচ্ছেন নামদেব দাশাল, রঘু দন্ডাবাতে, সতীশ কালসেকার, বসন্ত গুজার, মনোহর ওক প্রমুখ। এখনকার প্রজন্মের কবিরা আবার শুরু করেছেন ইন্টারনেট কম্পিউটারের ভাষায় লেখা। তবে এদের সবাই কিন্তু মারধেকার, কোলাৎকার, চিত্রে, নেমেড়েদের অবদান ও ধারাটাকে অকপটে স্বীকার করেন। সব দেশে, সব কালে লিটল ম্যাগাজিনের মূল উদ্দেশ্য এস্টাবলিশমেন্টের বিরোধিতা করা। মারাঠি সাহিত্যে নবজাগরণের এই পর্বে এসব তরুণ তুর্কি প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতা করতে গিয়ে খুঁজে বের করেছিলেন মধ্যযুগের কবিদের। এজন্য রূপকার্থে বলা হয়, ষাটের দশকের এই প্রজন্মটি তুকারামের সঙ্গে (রবীন্দ্রনাথ) ঠাকুর, কাফকার সঙ্গে কবীর এবং বিটলসের সঙ্গে বড়ে গোলাম আলির সফল সংমিশ্রণ ঘটিয়েছিলেন।
ষাটের দশকে বিট জেনারেশনখ্যাত মার্কিন কবি অ্যালেন গিনসবার্গ বেশ কিছু সময় ভারতে অবস্থান করেন। কলকাতায় শক্তি, সুনীল প্রমুখ কবির সঙ্গে গিনসবার্গের সখ্য ও নৈকট্যের কথা নানান লেখকের বিভিন্ন লেখার সুবাদে আমাদের কাছে আর অজানা নেই। স্বল্পজীবী হাংরি জেনারেশনের প্রেরণাও সেখান থেকেই আসে। সে সময় মুম্বাইয়ের নব্যধারার লেখক-কবিদের সঙ্গেও গিনসবার্গের পরিচয় ঘটে। আসলে সে প্রজন্মটার মধ্যে পূর্বসূরিদের প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে আসার অদম্য ইচ্ছা এবং নতুন কিছু সৃষ্টি করার একটা প্রেরণা প্রবলভাবে ক্রিয়াশীল ছিল। সে সময়কার প্রথা ভাঙা এই বিদ্রোহীদের কয়েকজন প্রায় পঞ্চাশ বছর পর স্বীকৃতি পেয়েছেন, তাদের মধ্যে অরুণ কোলাৎকারকে একটি উত্তুঙ্গ শৃঙ্গ বিবেচনা করেন অশোক সাহানে।
অশোক সাহানে বাংলা চর্চা শুরু করেন পঞ্চাশের দশক থেকেই। তার চমৎকার কথ্য বাংলা শুনে কেউ বুঝতেই পারবেন না যে তিনি বাংলাভাষী নন। তার সম্বন্ধে বলা হয়, তিনি যদি একটা বাংলা বই হাতে নিয়ে সেটার তাৎক্ষণিক মৌখিক মারাঠি অনুবাদ পাঠ করে শোনান, তাহলে শ্রোতা বুঝতেই পারবেন না যে সেটি বাংলা বই। তিনি এ যাবৎ যেসব বাংলা গ্রন্থ মারাঠিতে অনুবাদ করেছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, শংকরের সীমাবদ্ধ (মারাঠি নাম মর্যাদিত), জনঅরণ্য (জনআরণ্যা), গৌরকিশোর ঘোষের লোকটা (্ইসম), ওস্তাদ আলাউদ্দীন খানের আমার কথা (মাঝি কাহানি), মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুতুল নাচের ইতিকথা (সাই খড়্যাচ্যা খেলাচি গোস্ট), সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের ক্রীতদাস ক্রীতদাসী, তসলিমা নাসরিনের শোধ (ফিটামফাট)। রবীন্দ্রনাথের নাটক ডাকঘর (পোস্ট অফিস), শম্ভু মিত্রের দশচক্র (কোনডি), কাকে বলে নাট্য, অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হে সময় উত্তাল সময় এ নাটকগুলো মারাঠিতে মঞ্চস্থও হয়েছে।
এসব পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ ছাড়াও বিক্ষিপ্তভাবে অনুবাদ করেছেন মতি নন্দীর গোটা বিশেক গল্প, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সমরেশ বসু, রমানাথ রায়, বিমল কর, আশাপূর্ণা দেবী, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়, মহাশ্বেতা দেবী প্রমুখের শ-খানেক গল্প। সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা অমিতাভ বচ্চনের প্রামাণিক জীবনীও মারাঠিতে অনুবাদ করেছেন তিনি। তবে এটা করতে মন থেকে খুব সায় ছিল না তার, কারণ কাজটা তিনি করেছিলেন অনেকটা দায়ে পড়ে, স্ত্রীর ক্যানসার রোগের চিকিৎসার খরচ জোগাতে। সেজন্য এটাকে তিনি ধর্তব্যের মধ্যে আনেন না। তার অনুবাদ করা কবিতার সঠিক হিসাবটা তিনি নিজেও জানেন না, তবে এ কথা ঠিক, জীবনানন্দ দাশকে মারাঠি পাঠকদের কাছে প্রথম পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন অশোক সাহানেই। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা দরকার যে তসলিমা নাসরিনের বেশ কয়েকটা বই অনুবাদ করেছেন তিনি। তবে সেটা যতটা না বিশ্বাস থেকে, তার চেয়ে বেশি প্রকাশকদের তাগাদা থেকে।
বাংলা ভাষার প্রতি আকর্ষণের কারণেই বোধ করি কলকাতার সঙ্গে অশোক সাহানের যোগাযোগটা বরাবরই গাঢ়। আর গৌর কিশোর ঘোষের সঙ্গেই বোধ হয় তার সম্পর্কটা আরও ঘনিষ্ঠ। সেজন্য গৌর কিশোর রসিকতা করে বলতেন, অশোকের কলকাতায় যাওয়া মানে তো বাপের বাড়ি আসা। বেশির ভাগ সময় থাকতেনও গৌর কিশোরের বাড়িতে। সে বাড়ি অবশ্য সব সময়ই ওর বন্ধু-বান্ধবের আশ্রয়স্থল। অশোক সাহানে গল্পচ্ছলে বলছিলেন, গৌর কিশোরের মা আবার জাত-পাত ছোঁয়াছুঁয়ির বাছবিচার খুব মানতেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় গৌর কিশোরের বহু বাংলাদেশি বন্ধুর সে বাড়িতে ছিল অবাধ গতিবিধি। এ ব্যাপারে ওর মায়ের ছিল সাফ জবাব, ওরা কি মুসলমান নাকি, ওরা তো খোকার (গৌর কিশোর ঘোষ) বন্ধু।
একবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্য অনুবাদের ওপর একটা ওয়ার্কশপে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন অশোক সাহানে। মারাঠিতে অনুবাদের জন্য বাংলা সাহিত্যের তালিকা পড়ে দেখার পর তিনি আয়োজকদের মহা-বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দাবি করেন, বাংলাদেশের কারও কোনো বই বা লেখার নাম অনুবাদ তালিকায় নেই কেন? তাহলে জীবনানন্দ দাশের নাম কেন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো, তিনি কলকাতায় মারা গিয়েছেন বলে? পরিস্থিতি সামাল দিতে নবনীতা দেব সেন, অমিয়া দেব এরা ওকে বোঝাতে চাইলেন যে ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশনের একটা বাধ্যবাধকতা রয়েছে এ ব্যাপারে। মানব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ছিল আবার উল্টো, তিনি বলেন, বাংলাদেশের কেউ তেমন কিছু লিখেছেন নাকি? অশোক সাহানে বলেন, আপনাদের কেউ কি অফিশিয়ালি বলতে পারবেন এ কথা? বলা বাহুল্য, এর কোনো জবাব দিতে পারেননি কেউ। এর মধ্যে কে যেন সান্ত¡নাচ্ছ্বলে বলেন, আমাদের সিলেবাসে তো বাংলাদেশের সাহিত্যের ওপর একটা আলাদা পেপার রয়েছে। অশোক সাহানের সাফ জবাব, আমি তো যাদবপুরে ভর্তি হতে আসিনি যে সেই পেপার আমার কাজে আসবে। তীক্ষè পর্যবেক্ষণ আর বিশ্লেষণী শক্তি দিয়ে এভাবে কোনো আলোচনায় টেবিল উল্টে দেওয়ার বিরল ক্ষমতা রয়েছে অশোক সাহানের। তবে নিভৃতচারী ছোটখাটো মানুষটিকে দেখে তার ভেতরের আগুন আঁচ করা দুঃসাধ্য।
অশোক সাহানে তার নিজের কথা বলেন খুব কম, তাই তার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা আয়াসসাধ্য। তার অজস্র লেখা পত্রপত্রিকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলেও মৌলিক প্রবন্ধসংকলন মাত্র একটি, নাম নপেক্শা, শব্দটি তার নিজের আবিষ্কার, যার অর্থ ‘নইলে’ অথবা ‘নাহলে।’ সাহিত্যের জন্য কিছু করতে হলে অনেকগুলো গ্রন্থ থাকতে হবে, এমন কথা বিশ্বাস করেন না তিনি। প্রচুর অনুবাদকর্ম ছাড়া তাই তার মৌলিক গ্রন্থসংখ্যা একটি হলেও তার পরিচয় একাধারে অনুবাদক, সম্পাদক, উপদেষ্টা সম্পাদক, প্রবন্ধকার, কলামিস্ট ও প্রকাশক। তার সম্ভ্রান্ত প্রকাশনা সংস্থাটির নাম ‘পরশ প্রকাশন’। প্রকাশনা সৌকর্যের জন্য একাধিক পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। তার কাছে গ্রন্থ প্রকাশ করা হচ্ছে মায়ের পেট থেকে শিশুর জন্মের মতো, প্রতিটা অক্ষরকে গভীর যত্নের সঙ্গে পরিচর্যা করা। তাই তার প্রকাশিত যেকোনো বই হাতে নেওয়া গ্রন্থপ্রেমীদের জন্য আনন্দের অভিজ্ঞতা। ২০০৪ সালে তার পাওয়া দুটো পুরস্কার হচ্ছে ‘কেশব কোঠাওড়ে পারিতোষিক’ এবং ‘বি পু ভাগওয়াৎ প্রকাশন পারিতোষিক’। এসবের প্রতি অবশ্য তেমন মোহ নেই অশোক সাহানের। সাক্ষাতে কেউ তার প্রশংসা করলেও খুব অস্বস্তি বোধ করেন তিনি। শেষবার যে পুরস্কারটি পান, সেটির মূল অনুষ্ঠানে মানপত্র নেওয়ার পর তার বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে পাশে বসিয়ে যেসব কথা শোনালেন, সেসব সাধারণত মানুষ গত হওয়ার পর বলে, আপনারা কি তাই চান?’
এ রকমই বঙ্কিম রসিকতায় সরস অশোক সাহানে তার বাংলা শেখা প্রসঙ্গে বলতে শুরু করেন, ‘আমি তো বাংলা শিখতে শুরু করি আমার বিশ বছর বয়স থেকেই। যখন শেখা শুরু করি, তখন তিন মাস অন্তর ম্যালেরিয়ায় ভুগতাম। সূর্য হেলে পড়া থেকে জ্বরটা আসতে থাকত আর সন্ধ্যা নাগাদ বেশ তাপ হতো শরীরে। কুইনিন খেলে কয়েক দিন পর চলে যেত জ্বরটা, তারপর আবার তিন মাস পর ফিরে আসত। আমি সবাইকে বলতাম, শরীরের রক্তের ভেতর ম্যালেরিয়ার বীজ যখন ঢুকেছে, তখন বাংলাটা শিখে ফেলা যায়।’ বলা বাহুল্য, ম্যালেরিয়া মূলত বঙ্গদেশের রোগ। রোনাল্ড রস যে গবেষণা করে ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছিলেন, সেই গবেষণাও পরিচালিত হয়েছিল কলকাতায়।
তার ঘরে বইয়ের বিশাল সংগ্রহের অর্ধেকই বাংলা ভাষার বই। হাসান আজিজুল হকের আগুনপাখি বইটা সম্পর্কে তার ধারণা, বইটিতে দেশভাগ নিয়ে সঠিকভাবে যে বলা হয়েছে, তা তিনি মনে করেন না, তবে জম্পেশ এই বইটা নিয়ে ফিল্ম হওয়া উচিত।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় অ্যালেন গিনসবার্গ ছিলেন কলকাতায়, তখন যশোর রোড ধরে বনগাঁ পর্যন্ত গিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের শরণার্থীদের অবর্ণনীয় দুরবস্থায় ভারাক্রান্ত এই মার্কিন কবি একটা দুর্দান্ত দীর্ঘ কবিতা লিখেছিলেন, ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’। সেই কবিতাটা কবির কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে একটা ফোল্ডারে ছেপে বের করেছিলেন অশোক সাহানে, অন্য কোথাও তখনো প্রকাশিত হয়নি ওটা, সে হিসেবে তিনিই প্রথম প্রকাশক। সেই কবিতাটি মুম্বাইয়ের বিভিন্ন বুকস্টলে রাখা হয়েছিল, যাতে ওটার বিনিময়ে মানুষের কাছ থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা যায়। এভাবে সংগৃহীত সমুদয় অর্থ দান করা হয়েছিল মুম্বাইয়ের বাংলাদেশ এইড ফান্ডে। পরবর্তী সময় গিনসবার্গের ফল অভ আমেরিকা গ্রন্থে কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত হয়। সে বইয়ের ভূমিকায় অশোক সাহানের নামও উল্লেখ করা হয়েছিল। ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর গিনসবার্গের কবিতাটা চমৎকারভাবে ছেপে বাঁধিয়ে রেখেছে এক্সিবিট হিসেবে। সেখানে প্রকাশক হিসেবে নিজের নাম দেখে যারপরনাই বিস্মিত হয়েছিলেন অশোক সাহানে তার প্রথমবার ঢাকা সফরের সময়।
তিনি মনে করেন, বাংলা আর মারাঠি সাহিত্য নিয়ে কাজ করতে করতেই জীবন কেটে গেছে, বাকি জীবনটাও এমন করেই কাটিয়ে দিলে মন্দ কী। ভাবেন হয়তো অনেক কিছু করতে পারেননি তিনি, তবে যা কিছু করেছেন, ভালোবেসে যতœ নিয়েই করেছেন। তাই তার মনে কোনো গ্লানি নেই।
লেখক : কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক
