রোগ নির্ণয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফি

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২২, ১২:১৮ এএম

রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আল্ট্রাসনোগ্রাফি এমন এক প্রযুক্তি, যেটার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার পর্দার (স্ক্রিন) ছবি বিশ্লেষণ করে রোগ নির্ণয় করেন। অনেক রোগ নির্ণয় করতে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার পরামর্শ দেন ডাক্তার। আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে বিশেষ করে গর্ভস্থ শিশুর অবস্থান ও সুস্থতা, লিভার, স্পিøন বা প্লীহা, কিডনি, অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলী, পিত্তথলি, চক্ষু, থাইরয়েড, মূত্রথলিসহ নারী ও পুরুষের যৌনাঙ্গের নানাবিধ রোগ সহজেই নির্ণয় করা সম্ভব। যদিও অনেকের আল্ট্রাসনোগ্রাফি সম্পর্কে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। অথচ এমন কিছু রোগ আছে যেটা কেবল আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমেই নির্ণয় করা সহজ এবং নিরাপদ। এটা যেমন রক্তপাতহীন পরীক্ষাব্যবস্থা, তেমনি এটাতে কোনো কাটাছেঁড়া নেই, তাই ব্যথাও থাকে না। সুতরাং এটা রোগী এবং ডাক্তার দুজনের জন্যই বেশ স্বস্তিদায়ক। তাই কেন করব, কখন করব, করলে উপকার না অপকার জেনে নিতে পারেন।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ, গঠন-প্রকৃতিসহ বিভিন্ন বিষয় জানা যায়। আল্ট্রাসনোগ্রাফির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অন্যান্য রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষার তুলনায় কম এবং এটা বেশ নিরাপদও বটে।

আল্ট্রাসনোগ্রাফির যেমন উপকারিতা রয়েছে, তেমন আছে অপকারিতাও। বিশেষ করে গর্ভবতী রোগীর ক্ষেত্রে ডাক্তাররা ২উ আল্ট্রাসনোগ্রাফি করিয়ে থাকেন, এবং প্রয়োজনবিশেষে ৩উ আল্ট্রাসনোগ্রাফিও করান। কিন্তু গর্ভস্থ শিশুর মুখাবয়ব স্পষ্ট দেখতে গেলে প্রয়োজন পড়ে ৪উ আল্ট্রাসনোগ্রাফির। যেটাতে ব্যবহৃত হয় উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দতরঙ্গ। আর এটাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে মায়ের পেটের ভেতরে থাকা বাচ্চার অতি সংবেদনশীল টিস্যুর। সুতরাং এ ক্ষেত্রে আমাদের উচিত কৌতূহল দমিয়ে রাখা এবং গর্ভস্থ শিশুর মুখ দেখার জন্য ৪উ আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানো থেকে বিরত থাকা, এবং এতে করে শিশু স্বাস্থ্যের প্রতি হুমকি এড়িয়ে চলা যায়। তাছাড়া এর মাধ্যমে আমরা যে শিশুর অরিজিনাল মুখাবয়ব দেখতে পারি, তাও কিন্তু নয়। কারণ শিশু জন্মের পর পূর্ণাঙ্গ শিশুর মুখাবয়ব ওরকম না থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

প্রস্তুতি ও করণীয়

আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানোর আগে রোগীর কিছু প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। অনেক ভুল ধারণা আছে আল্ট্রাসনোগ্রাফি মানেই বেশি করে পানি পান করে প্রস্রাবের অধিক চাপ  তৈরি করে আসা। আবার অনেক সময় দেখা যায়, রোগীকে শুধু পানি খেয়ে আসতে বলা হয়েছে। কিন্তু রোগী পানির বদলে শরবত বা জুস এবং অনেক সময় হালকা বা ভারী নাশতা করে এসেছে। এতে চিকিৎসকের পক্ষে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয় না। বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় যে, রোগীকে খালি পেটে থাকতে বলা হলেও রোগী সামান্য পরিমাণে কিছু না কিছু খাবার খেয়ে আসে যেটা আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষার জন্য অন্যতম বাধা।

আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর আগে নির্দিষ্ট একটা সময় পর্যন্ত না খেয়ে থাকতে বলা হয় বা বেশি করে পানি খেতে বলা হয়। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যে, সংশ্লিষ্ট ডাক্তার রোগীকে কতক্ষণ আগে থেকে না খেয়ে থাকতে বলেছেন। না খেয়ে থাকতে বলা, মানে হলো একদমই কিছু খাওয়া যাবে না। হাল্কা কিছুও যদি খান, আর পেটে কোনোভাবে গ্যাস তৈরি হয়, সেটাতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। আবার পানি খেতে বললে, পানিই খেতে হবে, জুস বা অন্য কোনো তরল খাবার নয়।

আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর আগে রোগীকে কখনো ভরা পেট কিংবা খালি পেট, কখনো পূর্ণ মূত্রথলি কিংবা শূন্য মূত্রথলি অবস্থায় থাকতে হয়। প্রয়োজনে কখনো আবার সারা রাত খালি পেট অবস্থায় রেখেও আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর প্রয়োজন হতে পারে।

তাই  আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর আগে ডাক্তারের কাছে পরিষ্কারভাবে শুনে নেবেন। আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর সময় আরও যে ব্যপারে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে, সেটা হলো পরিধেয় পোশাক। আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর সময় আরামদায়ক ও সুতি পোশাক পরা ভালো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত