বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে চায় বলেই গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, যেকোনো ভাবে হোক ক্ষমতায় টিকে থাকা। গতকাল সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘১৬তম কারাবন্দি দিবস’ উপলক্ষে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করার জন্য তাদের মতো করে একটা নির্বাচন করতে চায়। সে কারণেই তারা নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করে। আবার তার আগে সার্চ কমিটি করে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে কোর্টের মাধ্যমে কাজগুলো করে। আদালতের মাধ্যমে তারা রায় দেয়, সেটাকে তারা বাস্তবায়িত করে। আবার বলে ইসি করেছে আইনের মাধ্যমে। কারা এই আইন পাস করল, একটা অবৈধ সংসদ।’
তিনি বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের আর কোনো অধিকার নেই রাষ্ট্র পরিচালনা করার। এই মুহূর্তে হাসিনা সরকারের পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘আসুন, সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করি। সব রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঐক্যবদ্ধ করি। একটা জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে সরকারকে পরাজিত করি। কালক্ষেপণের সুযোগ নেই।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনে ষড়যন্ত্র হয়েছিল বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে। বাংলাদেশকে ওপরে উঠতে না দেওয়ার জন্য। এ জন্য আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই ষড়যন্ত্র আজও চলছে। সরকার উন্নয়নের কথা বলে। কয়েক দিন আগে তারা বলেছে দারিদ্র্য নাকি এখন খুঁজে পাওয়া যায় না অথচ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বলছে দারিদ্র্য শতকরা ২ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে, মানুষ আরও গরিব হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার তারেক রহমানকে ভয় পায়। এর বাস্তব কারণ তারেক রহমানের অসাধারণ একটা সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে। সেই দক্ষতার কারণে তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যেই সারা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শক্তি জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে চলছেন।’
বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ আলী, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গোলাম মোর্শেদ, ছাত্রদল নেতা মতিউর রহমান প্রমুখ।
