লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে মা-বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলে ইউপি সদস্য মঞ্জুর আলমের বিরুদ্ধে। গত সোমবার ভুক্তভোগী আবদুল করিম লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আদিতমারী থানার ওসি, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর ছেলে ও বৌমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গতকাল মঞ্জুর আলমের বাবা আবদুল করিম ও মা মর্জিনা বেগম অভিযোগ করেন, ‘বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়েছি আগেই। সন্তানের কাছে জমানো টাকা ফেরত চাওয়ায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী হুমকিধমকি দিচ্ছে। নিরুপায় হয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মঞ্জুর আলম বলেন, ‘পারিবারিক সমস্যা হয়েছে সত্য। কিন্তু যেসব অভিযোগ আসছে, তার কোনোটিই সঠিক নয়।’
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয়রা জানান, জেলার আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের বালাপুকুর গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের একমাত্র মেয়ে মর্জিনাকে বিয়ের পর ঘরজামাই থেকে যান আবদুল করিম। এখানে তাদের একমাত্র ছেলে মঞ্জুর আলমের জন্ম ও বেড়ে ওঠা। গত নির্বাচনে ১ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। অন্য সন্তান না থাকায় মৃত্যুর আগে মঞ্জুর আলমকে তার নানা আবদুল খালেক মা-বাবাকে আজীবন লালনপালনের মৌখিক শর্তে ৩০ শতাংশ জমি লিখে দেন। এখানেই মা-বাবার সঙ্গে স্ত্রী রাবেয়া বেগমকে নিয়ে বসবাস করেন মঞ্জুর আলম।
কয়েক মাস আগে যৌতুক নিয়ে ঝামেলার জেরে মঞ্জুর তার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং পরে তাদের ডিভোর্সও হয়ে যায়। এ নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে মঞ্জুরের দূরত্ব তৈরি হয়। এরই মধ্যে স্থানীয় এক গৃহবধূর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে বিয়ে করে তাকে ঘরে আনলে বিরোধ দেখা দেয়। দ্বিতীয় বিয়েতে মা-বাবা বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের অকথ্য গালাগাল করেন মঞ্জুর। এক পর্যায়ে আবদুল করিম ছেলের কাছে নিজের জমানো টাকা ফেরত চাইলে বাড়িছাড়া করার হুমকি দেন। পরে গ্রামের মাতব্বরদের কাছে আবদুল করিম অভিযোগ দিলে মীমাংসার জন্য তারা সালিশে ডাকলেও মঞ্জুর সাড়া দেননি। উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে গত বছর ২৩ ডিসেম্বর মা-বাবাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
আবদুল করিম স্ত্রীকে নিয়ে প্রতিবেশী আবদুর রাজ্জাকের পরিত্যক্ত একটি ঘরে আশ্রয় নেন। সেখানে স্থানীয়রা তাদের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দেন। বর্তমানে সেখানেই এ দম্পতি বসবাস করছেন। নতুন করে হুমকিধমকি দেওয়ায় সোমবার আবদুল করিম ছেলের নামে লিখিত অভিযোগ দিলেন।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জিআর সারোয়ার বলেন, ‘অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
