ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, জ¦ালানি তেলের বাজারে অস্থিরতাসহ নানামুখী গুজবে পুঁজিবাজারে যে ভয়াবহ পতনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছিল, নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপে তা কাটতে শুরু করেছে। শেয়ার দর কমার সর্বোচ্চ সীমা কমিয়ে আনার পাশাপাশি আইসিবিসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় করার মাধ্যমে গত দুই দিনে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে। বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ায় লেনদেনেও উন্নতি দেখা গেছে। টানা ৯ কার্যদিবস পর গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কেনাবেচা হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষিতে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই বড় পতন দেখা দেয় দেশের পুঁজিবাজারে। সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবার ডিএসইর প্রধান সূচক ৫৮ পয়েন্ট হারায়। পরদিন সোমবার জ্বালানি তেলের দাম ১৩৯ ডলারে উন্নীত হওয়ার সংবাদে ভয়াবহ দরপতন দেখা দেয়। সেদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৯৬ শতাংশ শেয়ারের দরপতনে প্রধান মূল্যসূচকটি ১৮২ পয়েন্ট হারায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতে বড় পতন দেখা দিলে শেয়ার দর কমার সর্বোচ্চ সীমা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় এসইসি এবং তা লেনদেন চালাকালেই বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের জানিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবিকেও পুঁজিবাজার স্থিতিশীল তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ দুই সিদ্ধান্তের কারণে মঙ্গলবারের বড় পতন রোধ করে সূচকে কিছু বাড়তি পয়েন্ট যোগ করে লেনদেন শেষ হয়। এসইসির এই দুই সিদ্ধান্তের ইতিবাচক প্রভাব সপ্তাহের বাকি দুই দিনেও দেখা যায়।
এসইসির সিদ্ধান্তের প্রভাবে বুধবার ৯৬ শতাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে প্রধান মূল্যসূচক বাড়ে ১৫৫ পয়েন্টের বেশি। গতকালও লেনদেনের শুরুর প্রথম ৪০ ঘণ্টায় ডিএসইর প্রধান সূচকটি ১০৮ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে কিছুটা বিক্রিচাপ থাকায় শেষ পর্যন্ত সূচকে ৩৮ পয়েন্ট যোগ করে দিনের লেনদেন শেষ হয়। গতকাল অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৮৩টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৫টির, কমেছে ১৪৯টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৯টির দর। গতকাল ৩ শতাংশের বেশি দর বেড়েছে ৫১টি কোম্পানির শেয়ারের। বিপরীতে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ পর্যন্ত দর কমেছে মাত্র ৫ কোম্পানির।
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ দর কমার সীমা মাত্র ২ শতাংশে বেঁধে দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক অনেকটাই কমে গেছে। বড় বিনিয়োগকারীদের উল্লেখযোগ্য অংশ যারা কয়েক সপ্তাহ আগে সাইড লাইনে ফিরে গিয়েছিলেন, বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ায় তাদের অনেকেই এখন লেনদেনে অংশ নিতে শুরু করেছেন। এ ছাড়া ব্যাংকসহ আইসিবির মতো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ বাড়িয়েছে, যার প্রভাব দেখা গেছে লেনদেনে। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ১ হাজার ৬১ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৩৭ শতাংশ বেশি। এর আগে সর্বশেষ ২৪ ফেব্রুয়ারি হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। গতকাল বেশিরভাগ শেয়ারের দর বাড়ায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে ৬৬৬৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এ নিয়ে টানা তিন কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী ধারায় থাকল বাজার। এ সময়ে ২১২ পয়েন্ট হারানো মূল্যসূচক পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে ডিএসইর প্রধান সূচক।
