আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিজ দলের ক্ষতি করে চলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুর থেকে নিজের ফেইসবুক পেজে লাইভে এসে এ কথা বলেন তিনি। তবে কিছুক্ষণ পরই তিনি তার ফেইসবুক পেজ থেকে লাইভ ভিডিওটি সরিয়ে নেন। অবশ্য এর আগেই ভিডিওটি ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য বর্তমানে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে আছেন। সেখানে গতকাল তার হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচারের কথা ছিল।
একরামুল করিম লাইভে এসে বলেন, ‘কাদের ভাই নোয়াখালী আওয়ামী লীগকে বাঁচান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বাঁচান। আপনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অনেক ক্ষতি করে যাচ্ছেন। যে ক্ষতি আওয়ামী লীগ পুষিয়ে নিতে অনেক কষ্ট হবে। আপনি কেন বোঝেন না নেত্রী বিভিন্ন জায়গা থেকে আপনাকে চুপ থাকার জন্য বলছে। এগুলো কেন বোঝেন না, আপনার এই অ্যাক্টিভিটিজ কেউ পছন্দ করছে না। নোয়াখালীর মানুষ তো না। নোয়াখালীর কয়েকজন সুবিধাবাদী লোক ছাড়া নোয়াখালীর ম্যাক্সিমাম মানুষের কাছে আপনি ঘৃণিত লোক।’
ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট করেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই অবস্থান থেকে ২০০৮ সালে আমাকে দলে নেওয়া হলো। ২০০৮ সালে এসে নোয়াখালী-৪ আসন থেকে ভোট করার ব্যবস্থা করে দেন কাদের ভাই। উনি মনে করেছেন ওটা তো বিএনপির ঘাঁটি, একরাম জিতবে না। তখন অনেক বড় নেতা আমাকে আকারে-ইঙ্গিতে বলেছে তাকে (ওবায়দুল কাদের) হারিয়ে দেওয়ার জন্য। অনেক কষ্টে কাদের ভাই ১১০০ ভোট নিয়ে জিতলেন। তাও আমার ইউনিয়নের ভোট নিয়ে।’
ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে একরামুল চৌধুরী বলেন, ‘কাদের ভাই তার ভাইকে লেলিয়ে দিয়েছেন আমার বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য। ওবায়দুল কাদের আমাকে এক টাকার বেনিফিটও দেননি। বরং আমি ওনার কাছে যে কাজটা চেয়েছি সেই কাজগুলো আমি যেন না পাই সে ব্যবস্থা করেছেন। তবে ওনাকেও জবাবদিহি করতে হবে। জবাব তো অলরেডি দিচ্ছেন ওনার ভাইয়ের কাছে। ভাবির সম্বন্ধে একজন অভদ্র লোক ছাড়া কোনো লোক এভাবে কথা বলতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনাকে আমি ঘৃণা জানাই। আপনি বিচার করতে জানেন না। নিজের ওয়াইফ সম্পর্কে যে ভাই কটূক্তি করে।’
সভা-সমাবেশে দেওয়া কাদের মির্জার বক্তব্যের ইঙ্গিত করে একরামুল বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনি কন্ট্রোল করতে না পারলে একটা দিন আমাকে দেন। আপনার ভাইকে ওই পিচঢালা রাস্তার ওপর দিয়ে ছেঁচায়ে ছেঁচায়ে আনব। আপনার কারণে আমাদের অনেকের মুখ বন্ধ। আমার মুখ বন্ধ, বিশেষ করে জননেত্রী শেখ হাসিনা ৪-৫ বার খবর পাঠিয়েছেন নানক ভাইয়ের মাধ্যমে। আমি যেন কোনো কথা না বলি। আজকে কথাগুলো বলতেছি যেহেতু হার্ট অপারেশন। বাঁচতেও পারি, মরেও যেতে পারি।’
