আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী

টিকায় অষ্টম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২২, ০২:১৪ এএম

এক দিনে এক কোটিসহ অল্প সময়ে ২২ কোটি ডোজ করোনার টিকা দেওয়ায় টিকার বৈশ্বিক তালিকায় বাংলাদেশ অষ্টম অবস্থানে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন দিয়ে করোনা মহামারী থেকে দেশকে রুখে দেওয়ায় ব্লুমবার্গ করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে অষ্টম অবস্থানে তুলে এনেছে এবং করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই করোনায় বিশ্বের অনেক দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যখন ভয়াবহ তখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। জিডিপি ৬ প্লাস হয়েছে। মানুষ এখন নিশ্চিন্তে আবার ব্যবসা-বাণিজ্যে মন দিতে পারছে। এগুলো এমনি এমনি হয়নি। এর জন্য স্বাস্থ্য খাতকে দিন-রাত কাজ করতে হয়েছে।

করোনা টিকার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এক দিনেই ১ কোটি ২০ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছি, যা একটি রেকর্ড। আমরা এ পর্যন্ত প্রায় ২২ কোটি ডোজ টিকা দিতে সক্ষম হয়েছি। এর মধ্যে সাড়ে ১২ কোটি ডোজ ১ম, সাড়ে ৮ কোটি ডোজ ২য় এবং ৫০ লাখ ডোজ বুস্টার ডোজ দিতে সক্ষম হয়েছি। এই টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষাধিক লোক কাজ করছে। এত বড় একটি কর্মযজ্ঞে তেমন কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি দেখা যায়নি। টিকা ক্রয় ও টিকাদান কার্যক্রম মিলে এগুলোর পেছনে সব মিলিয়ে সরকারের প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহস করে এত বিশাল অঙ্কের টাকার কথা না ভেবে দেশের সবাইকে টিকার আওতায় এনেছেন বলেই দেশবাসী এখন করোনায় অনেকটাই স্বস্তিতে রয়েছে, মানুষ আবার স্বতঃস্ফূর্ত কাজে নামতে পারছে।’

দ্রুতই দেশের আরও বেশিসংখ্যক মানুষকে টিকার বুস্টার ডোজের আওতায় আনা হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, করোনায় এক দিনে যেভাবে প্রায় এক কোটি মানুষকে গণটিকা দেওয়া হয়েছে, ঠিক সেভাবে দ্রুতই বুস্টার ডোজেরও ক্যাম্পেইন করা হবে। এতে করে দেশ আরও বেশি নিরাপদ থাকবে।

কিডনি রোগ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ সময় জানান, ‘করোনায় দিনে ২০ জন মানুষ মারা গেলে আমরা কত চিন্তায় থাকি। অথচ কিডনি রোগে দিনে ৭০-৮০ জন এবং ক্যানসারে ২-৩শ মানুষ মারা যাচ্ছে, সেগুলো নিয়ে আমরা খুব বেশি সচেতন থাকি না। এই রোগগুলো নিয়ে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিডনি রোগীর সংখ্যা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, ‘দেশে এখন প্রায় দুই কোটি কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি আছে। প্রতিদিন গড়ে ২০-৩০ হাজার মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এসব রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা দেশের প্রতিটি জেলায় আলাদা করে ১০ বেডের ডায়ালাইসিস ও ১০ বেডের আইসিইউ বেড করার কাজ হাতে নিয়েছি। আট বিভাগে ৮টি আধুনিক ক্যানসার, কিডনি চিকিৎসা হাসপাতাল নির্মাণ করতে কাজ শুরু করা হয়েছে। এগুলো হলে দেশের মানুষ নিজ নিজ এলাকাতেই এ রকম জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা বিনা মূল্যে গ্রহণ করতে পারবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান। আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব সাইফুল ইসলাম বাদল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশিদ আলম, হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নিতাই চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত