দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি

২৮ মার্চ হরতালের ডাক বাম জোট ও জাফরুল্লাহর

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২২, ০৬:৫০ এএম

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ২৮ মার্চ দেশজুড়ে আধাবেলা হরতালের ডাক দিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। গতকাল শুক্রবার আলাদা আলাদা সংবাদ সম্মেলনে এই হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তার আগে সকালে বাম গণতান্ত্রিক জোট হরতালের ডাক দেয়।

হরতালের সমর্থনে রাজধানীর পুরানা পল্টনে মুক্তি ভবনের প্রগতি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাম জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘মুনাফাখোর অসৎ সিন্ডিকেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের অশুভ যোগসাজশেই দ্রব্যমূল্যের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি। দ্রব্যমূল্যের ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতি রোধে বাম গণতান্ত্রিক জোট আগামী ২৮ মার্চ সোমবার দেশব্যাপী অর্ধদিবস (সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা) হরতাল ঘোষণা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হরতাল সফল করতে সারা দেশে সভা, সমাবেশ, পদযাত্রা, মিছিল, বিক্ষোভ ও প্রচারপত্র বিলি করার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হরতাল কর্মসূচি সফল করতে দেশের সব বাম প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক দল, সংগঠন, শ্রেণিপেশার সংগঠন ও নেতৃবৃন্দকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

সাইফুল হক বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে চাল-ডাল-পেঁয়াজ-সিলিন্ডার গ্যাসসহ অতি জরুরি খাদ্যদ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের যা দাম বেড়েছে; দেশে তার তুলনায় অনেক বেশি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বাড়ানো হচ্ছে পুরোপুরি খামখেয়ালিভাবে। এসব খাতের চুরি, দুর্নীতি, লুটপাট আর অব্যবস্থাপনার দায় চাপানো হচ্ছে ভোক্তাদের ওপর।’

একই দাবিতে ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের বীরউত্তম মেজর হায়দার মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা দেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সরকারকে দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য, জনগণের কথা সরকারের কানে প্রবেশের জন্য আগামী ২৮ মার্চ সব রাজনৈতিক দলের, সব মানুষের উচিত শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করা।’

দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা ২৮ তারিখ বাসার বাইরে বের হবেন না। বের হলেও হরতালে যোগ দেওয়ার জন্য বের হবেন। সবাই মিলে দলমত নির্বিশেষে যে যেভাবে পারেন ২৮ মার্চ এই হারতাল পালন করেন।’

জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরও বলেন, ‘দেশ কঠিন সময় অতিক্রম করছে। এটা ১৯৭৪ সালের পূর্বাভাস। ১৯৭৪ সালে অনাহারে ৩ লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল। কয়েক মাস আগেও আমাদের দেশে রাষ্ট্রীয় উদ্বৃত্ত ছিল ৪৭ বিলিয়ন ডলার। এখন সেটা ৪৩ বিলিয়ন ডলারে চলে আসছে। এই ৪ বিলিয়ন ডলার কোথায় গেল? এই ৪ বিলিয়ন ডলার দিয়ে তো কয়েক বছর সারা দেশে অন্তত দুই-তিন কোটি পরিবারকে রেশন দেওয়া যেত।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত