বাঁকবদল মানে টুইস্ট জাতীয় সিনেমা যারা পছন্দ করেন তাদের এখন পোয়াবারো। সাকিব-বিসিবি ইস্যুতে এই মনে হচ্ছে সব শান্ত হলো, ঠিক তখনই সিনেমার মতো বাঁক বদলে আরেক প্রস্ত কাহিনীর আবির্ভাব। গত বুধবার সাকিব আল হাসানের ছুটির মধ্যে এই ইস্যুর শেষ ধরা হচ্ছিল। তিনদিনের মাথায় নতুন টুইস্ট, তাও ১৮০ ডিগ্রি পুরো। ‘ছুটি’কেই ছুটিতে পাঠিয়ে সাকিব যাচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকা। খেলবেন পুরো সিরিজ। শুধু তাই নয় সামনে থেকে নিজের ইচ্ছেতে নয়, বোর্ডের ইচ্ছেতেই ছুটি নেবেন। শারীরিক ও মানসিকভাবে খেলার শত ক্রোশ দূরে সাকিব হঠাৎ মাঠে নামতে পুরো প্রস্তুত!
আলোচনার শেষে সাকিবের ছুটির ঘটনার পর্যায়ক্রম ব্যাখ্যা করে গতকাল দুপুরে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেট আঙিনায় পাপন জানান, এতে প্রমাণিত যে সাকিব মানসিকভাবে এলোমেলো। তাই তার সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হচ্ছে। দিন শেষে এই অবস্থাকে ইতিবাচকভাবেই নিলেন পাপন। তাই সাকিবের পাশে দাঁড়িয়ে সাকিবকেই সিদ্ধান্ত নিতে বললেন। সাকিবও জানালেন নিজের সিদ্ধান্ত, ‘পাপন ভাইয়ের সঙ্গে পরশু রাতেও কথা হয়েছে, আজও উনার সঙ্গে কথা হয়েছে। যেহেতু (বিসিবির সঙ্গে চুক্তির) তিন ফরম্যাটেই আছি, তিন ফরম্যাটেই সবসময় অ্যাভেইলেবল থাকব। বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে কখন বিশ্রাম দেওয়া দরকার। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও আমি অ্যাভেইলেবল।’
শনিবার সাকিবের সঙ্গে বিশেষ আলোচনা শেষে নাজমুল হাসান পাপন নিজেই পর্যায়ক্রমে অবস্থার ব্যাখ্যা করছিলেন। সাকিব শুরুতে তার কাছে ছুটি চেয়েছিলেন, এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে বলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলবেন। আবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পর দুবাই যাওয়ার আগে বলে গেছেন খেলার মতো অবস্থায় নেই তিনি, হতে পারে টেস্টে খেলবেন। পরে ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান জালাল ইউনুস চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে জানান কোনো ফরম্যাটেই খেলার অবস্থায় নেই। ছুটি পেলেন ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। আবার এরই মধ্যে বিসিবি প্রধানের সঙ্গে কথা বলে জানান ফিরে এসে কথা বলবেন। ফিরে এসে তিনবারের আলোচনা শেষে জানালেন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছেন। বিসিবি সভাপতি জানালেন, ‘পরশু (বৃহস্পতিবার) দিন দুবাই থেকে এসেই সাকিব আমার বাসায় এসেছিল, এটা আসার কথা ছিল। ওর সঙ্গে কিছু কথাবার্তা হয়েছে। ওকে সময়ও দেওয়া হয়েছিল ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখার। কাল ও আমার সঙ্গে কথা বলেছে। আজ আমরা বোর্ডে বসেছিলাম সম্পূর্ণ পরিকল্পনা নিয়ে। পরশু দিন সে যে জিনিসটা বলেছে, আসলে সে একটু মানসিকভাবে এলোমেলো। এটা আমরা সবাই, কোনো না কোনো সময় এরকম হয়। অনেকে আপনারা ধারণা করে নিচ্ছেন, এটার জন্য ওটার জন্য। যে কোনো মানুষেরই এমন জিনিস থাকতে পারে, মানুষ এটা জানেই না। ও মানসিকভাবে একটু এলোমেলো, সে জন্য সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হচ্ছে। সে আমার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছে এবং বলেছে সব ফরম্যাটে খেলত চায়। ইনক্লুডিং দক্ষিণ আফ্রিকা।’
দুবাই যাওয়ার আগে বিমানবন্দরের সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসার জবাবে সাকিব বলেছিলেনÑ ‘হ্যাঁ, আমি যাব তো। দক্ষিণ আফ্রিকা যাব। ফিরে এসে দলের সঙ্গে যাব।’ তাহলে ছুটির আবেদন ও তা মঞ্জুর হওয়া কেন? কালকের আলোচনায় আসলে বিসিবি প্রধান সাকিবকে কী বলেছিলেন? তার সামনে এক বছরের কেমন পরিকল্পনা রাখা হয়েছিল? এর উত্তরগুলো বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্সের কাছে জানতে চেয়েও পাওয়া যায়নি।
তবে বিসিবি প্রধানের কথামতো এখন সাকিব দক্ষিণ আফ্রিকা গেলেও তার জন্য বিশ্রাম যে কোনো সময় বরাদ্দ। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের খেলার চাপ থেকে রেহাই দিতেই এমন ভাবছে বিসিবি। তাই দক্ষিণ আফ্রিকাতেই কোনো ম্যাচ বিশ্রাম পেতে পারেন। আবার সামনের কোনো সিরিজে সাকিবকে বিশ্রাম দিয়ে তার জায়গায় নতুন কাউকে আনতে পারে বোর্ড। এ থেকে ধারণা করা যায় এই সিরিজে ছুটি না পেলেও সামনে কাক্সিক্ষত ছুটি পাবেন সাকিব। হয়তো এটাই বিসিবির এক বছরের পরিকল্পনা।
এই পরিকল্পনাও বদলে যেতে পারে। সাকিব যেমন বললেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কাছে গেলে হয়তো আরও তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। ভিন্ন একটা পরিবেশে গেলে মানসিকতা অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে যায়। আশা করি, তেমন কিছু হবে ভালোভাবে এবং দলের জন্য ভালো পারফর্ম করতে পারব।’ সাকিবের পরিকল্পনা বদলে খেলার মধ্যে বাংলাদেশ দলের সুবিধা, বিসিবির স্ব¯ি। বোর্ডের পক্ষ থেকে তো বারবারই বলা হচ্ছিল সাকিবকে সামনে দুই বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে দরকার। দুই পক্ষের চার দেয়ালের মধ্যে হওয়া আলোচনা ফলপ্রসূ হোক, বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য হোক এটাই চাওয়া। বাঁক বদলের সিনেমার মতো এই ইস্যু বারবার দিক বদলালে দলীয় খেলা ক্রিকেট যে ব্যক্তির খেলা হয়ে উঠবে।
