আমিরাতে সংবর্ধনায় শেখ হাসিনা

গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকায় উন্নয়ন হয়েছে

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২২, ০৬:৫৫ এএম

একটানা ১৩ বছর ধরে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল বলেই আজ আপনারা গত ১৩ বছরে পরিবর্তিত বাংলাদেশ দেখতে পাচ্ছেন।’ সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) তার সরকারি সফর উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে ইউএইতে পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে গতকাল শনিবার রাতে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রবাসীদের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবুধাবির আবাসস্থল থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে তিনটি ভেন্যু থেকে প্রবাসীরা সংযুক্ত ছিলেন। এগুলো হলো দুবাইতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট, আবুধাবি থিয়েটার এবং রাস আল খাইমায় বাংলাদেশ ইংলিশ প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের পর একটি কালো অধ্যায় ছিল, কিন্তু কালো মেঘ চলে গেছে। আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

করোনাকালে একটি সমস্যা তৈরি হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এখন আরেকটি নতুন সমস্যা তৈরি হচ্ছে। আমরা আরেকটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা সমস্যা দেখা যাচ্ছে। আমরাও কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। তবে আমি বিশ্বাস করি যে আমরা বাংলাদেশে এটি মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’

প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের তাদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের বলতে বলেছেন, যেন কোনো জমি অনাবাদি রাখা না হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি তা করতে পারি, তাহলে বিশ্বজুড়ে যতই অর্থনৈতিক মন্দা এবং খাদ্য ঘাটতি থাকুক না কেন, আমাদের কোনো অসুবিধা হবে না।’

দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেউ ইচ্ছা না করলে দেশে বেকার থাকার সুযোগ নেই। কেউ একটু উদ্যোগ নিলে আর বেকার থাকবে না।’

আমিরাত সফর সম্পর্কে সরকারপ্রধান বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। আমি মনে করি আমার সফর খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে প্রবাসীদের বিদেশের মাটিতে নিয়ম-কানুন মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আপনাকে নিজের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে, নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং নিজ দেশ এবং যেদেশে আপনি আছেন উভয় দেশের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে।’

প্রবাসীদের দাবির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার তাদের জন্য দ্রুত পাসপোর্ট সেবা নিশ্চিত করতে এবং বিমানবন্দরে আরও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে প্রবাসীদের হয়রানি কমাতে নজরদারি জোরদার করার পদক্ষেপ নিয়েছে।

অনুষ্ঠান চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি বাংলাদেশ ইংলিশ প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা প্রমুখ। ইউএইতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবু জাফরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে একজন কলেজছাত্রীসহ তিনজন প্রবাসীও বক্তব্য রাখেন।

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী : গতকাল স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, গতকাল স্থানীয় সময় বিকলে ৫.৫৫ মিনিটে ফ্লাইটটি আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। ইউএইতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফর প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে বিদায় জানান।

আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৭ মার্চ উপসাগরীয় দেশটিতে পৌঁছান। বাসস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত