দিনমজুর থেকে যেভাবে তারকা ইউটিউবার মুন্ডা

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২২, ০৩:০৮ পিএম

সহায় সম্বলহীন অবস্থা থেকে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয় আমাদের সমাজে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই সময়ে কেউ গান গেয়ে, কেউবা অভিনয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়ে রাতারাতি পেয়েছেন তারকা তকমা।

বিবিসি’তে করা সন্দ্বীপ সাহু’র প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এবার তেমন এক তরুণের কথা শোনাব আপনাদের। কভিড লকডাউনের সময় যিনি দিনমজুর থেকে হয়ে ওঠেন ইউটিউব তারকা।

ভারতের ওডিশা রাজ্যের শ্রমিক ইসক মুন্ডা। মানুষ করোনা মহামারিতে বিশ্বের গতি থেমে যাওয়া দেখেছে বেশিদিন হয়নি। গৃহবন্দীত্বের দিনগুলোতে অনেকে নানা কিছু করে সময় কাটাতে চেষ্টা করেছেন।

কিন্তু মুন্ডার কাঁধে চেপে বসে দুর্দশা। লকডাউনের সময় কাজ হারিয়ে বসেন তিনি। যে নির্মাণ শিল্পে কাজ করতেন তা বন্ধ হয়ে যায়। তার মতো আরও শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়। দিনে এনে দিনে খাওয়ার মতো যার অবস্থা, বুঝুন কী দুর্দশায় পড়তে হয়েছিল মুন্ডাকে। অনুপ্রেরণায় আঘাত না করা পর্যন্ত জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন তিনি।

একদিন মুন্ডা দেখেন, তার সন্তানেরা ইউটিউবে কার্টুন দেখছে। আর সেখানেই শোনেন, কীভাবে ভিডিও আপলোড করে এই প্ল্যাটফর্ম থেকে টাকা উপার্জন করা যায় তার এক বিজ্ঞাপন।  

ব্যাপারটি বেশ নাড়িয়ে দিয়েছিল মুন্ডাকে। নিজের মনে ভাবতে লাগলেন, এমনটা কেন চেষ্টা করছি না। তার তো হারানোর কোনোকিছু নেই। সুতরাং, যে ভাবনা সে কাজ। ইউটিউবে অ্যাকাউন্ট খুলে সাধারণ খাবারদাবারের ভিডিও ও টিপস দেওয়া শুরু করে দিলেন।

২০২০ সালের মার্চে ইউটিউবে নিজের প্রথম ভিডিও আপলোড করেন মুন্ডা। এই ব্যাপারে খুব মরিয়া ছিলেন তিনি। তার ফলাফলও দ্রুত পেয়েছেন। তার সাধারণ খাবারদাবার নিয়ে টিপসমূলক ভিডিওগুলো এখন লাখ লাখ মানুষ দেখছেন। তারকাখ্যাতিও পেয়ে গেছেন তিনি।

নিজের প্রথম ভিডিওতে মুন্ডাকে দেখা যায়, খাবার প্লেট হাতে বসে আছেন। আর সেই প্লেটে রয়েছে ভাত, ডাল, সবুজ শাকসবজি, একটি টমেটো ও একটি মরিচ। দর্শকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে থালাভর্তি এই খাবার নীরবে শেষ করেন তিনি।

কিন্তু সেই ভিডিও কেউ দেখেনি। হতাশ হলেও সাহস হারাননি মুন্ডা। নিজের সেই ভিডিওর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক সপ্তাহ ধরে কেউ আমার ভিডিওটি দেখেনি। আমি হতাশ হয়ে পড়লাম।

এরপর সিদ্ধান্ত নিলেন, এর আরেকটি শট নেওয়ার। কীভাবে ভিডিও দর্শকদের কাছে পৌঁছানো যায়, তার সাহায্য পাওয়ার জন্য তিনি ইউটিউবে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করেন। জানতে পারলেন, যারা ভিডিও বানান তারা সেই ভিডিও সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে প্রোমোট করেন।

মুন্ডাও ফেসবুকে একটা অ্যাকাউন্ট খুললেন। নিজের ভিডিওগুলো সেখানেই শেয়ার করা শুরু করলেন তিনি। এবার কাজ হলো। শিগগিরই তার ভিডিও ১০ হাজার ১২ জন লোক দেখল।

ভাইরাল হতেও বেশিদিন লাগল না তার। ওডিশার এক বিখ্যাত খাদ্য ‘বাসি পাখালা’। অর্থাৎ, গাজন ভাত নিয়ে বানানো এই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। সেই কথা স্মরণ করে মুন্ডা বলেন, ‘এই ভিডিও কয়েকদিনের মধ্যে আমার সাবস্ক্রাইবার নিয়ে গেল ২০ হাজারের ওপরে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, মঙ্গোলিয়াসহ সারা বিশ্বের মানুষ এটা দেখেছে। এই উৎসাহই আমার প্রয়োজন ছিল।’

দুই বছরের মধ্যে মুন্ডার চ্যানেল ‘ইসক মুন্ডা ইটিং’য়ের সাবস্ক্রাইবার ছাড়িয়েছে ৮ লাখ। তার ভিডিওগুলো ১০০ মিলিয়নের বেশি দেখা হয়েছে।

গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছ থেকে প্রশংসাও পেয়েছেন মুন্ডা। মাসিক এক রেডিও শো’তে এসে মোদী তাকে ‘ইন্টারনেট সেনসেশন’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত