করোনা পরিস্থিতিতে টানা দুই বছর বন্ধ থাকার পর গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিশুদের ক্লাস। এসব শিশুর কারও কারও স্কুলে ভর্তি হয়ে অনলাইন ক্লাসেই দুই বছর কেটে গেলেও এতদিন পরিচয় হয়নি শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ, ব্ল্যাক বোর্ড বা বন্ধুদের সঙ্গেযা হয়েছে গতকাল। তবে ক্লাস চালু হলেও এখনই প্রতিদিন ক্লাসে আসবে না প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিশুরা। আপাতত তারা সপ্তাহের দুদিন মঙ্গল ও রবিবার ক্লাসে অংশ নেবে।
এদিকে এতদিন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ক্লাস হয়েছে সীমিত পরিসরে। গতকাল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুরোদমে ক্লাস শুরু হয়েছে। আর আংশিক নয়, এখন থেকে পূর্ণ রুটিনে ফিরবে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
গতকাল রাজধানীর একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাস চালু হওয়ায় খুশি শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। প্রথম দিনের ক্লাসে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যেই ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস, তবে কারও কারও মধ্যে কিছুটা জড়তা ও ভীতি কাজ করতেও দেখা গেছে।
রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়ার আইকন একাডেমির সামনে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই প্রতিবেদকের কথা হয় ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্লে-গ্রুপের শিক্ষার্থী রুমিতা আরশির। মা ফরিদা আক্তারের সঙ্গে জীবনে প্রথমবারের মতো স্কুলে এসে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত ছিল এই খুদে শিক্ষার্থী। রুমিতার মতো আনন্দিত তার মাও। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই দিনটির জন্য আমার মেয়ে কত যে অপেক্ষায় ছিল তা বলে বোঝাতে পারব না। সকালে স্কুলে যাবে এটা ভেবে কাল রাত থেকেই মেয়ে খুবই খুশি।’
প্রায় একই ধরনের অনুভূতির কথা জানান রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মঞ্জুরুল আলম। তিনি তার ছেলে কেজি শ্রেণির শিক্ষার্থী যাফির ইসলামকে দিতে এসেছিলেন শান্তিনগরের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট স্কুলে। মঞ্জুরুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজকের দিনটি আমার ছেলের জন্য বিশেষ দিন। স্কুলে এসে নতুন নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় হবে ভেবে ও খুবই উত্তেজিত ও আনন্দিত। এই আনন্দে গতকাল রাতে ঘুমাতেই চায়নি।’
২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয় দুই দফায়। প্রথম দফায় প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করে শিক্ষাঙ্গনের দরজা। সশরীরে ক্লাস শুরু হয় মাধ্যমিক স্কুলে। এরপর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে। সবার পর সশরীরে ক্লাস শুরু হয় প্রাথমিকে। তবে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে দ্বিতীয় দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস বন্ধ করে দেওয়া হয় গত ২১ জানুয়ারি। এ দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস বন্ধ থাকে এক মাস। পরে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে আবার সশরীরে ক্লাস শুরু হয়। আর ২ মার্চ থেকে আবারও শুরু হয় প্রাথমিকে সশরীরে ক্লাস।
দেশে প্রথমে ২০১০ সালে স্বল্প পরিসরে প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা চালু হয়। এরপর ২০১৪ সালে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু হয়। দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঁচ থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের জন্য এক বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাস্তর রয়েছেযা ‘শিশু শ্রেণি’ নামে পরিচিত। ইংরেজি মাধ্যম ও কিন্ডারগার্টেনে প্লে, নার্সারি ও কেজি শ্রেণি প্রাক-প্রাথমিক স্তরের মধ্যে পড়ে।
