মেজবানিতে ভাটা

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২২, ০২:৪৩ এএম

রেড মিটে প্রায় সবারই আলাদা নজর। বিশেষ করে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান। কিন্তু গরু, খাসি ও মুরগির মাংসের বর্তমান বাজারদর এবং সয়াবিন তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় ঐতিহ্যের এই মেজবান অনুষ্ঠানে ভাটা পড়েছে। আগে যেখানে প্রায় প্রতিদিনই মেজবান অনুষ্ঠান লেগে থাকত, সেখানে এখন তা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

তেল, চাল, ডালসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের বাজারের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গরু, খাসি ও মুরগির মাংসের দাম। গরুর মাংস আগে কেজিপ্রতি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬৫০-৭০০ টাকায়। আর খাসির মাংস তো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০০-৯০০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহ থেকে ১০-১৫ টাকা বেড়ে ১৭৫-১৮৫, পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগি ১০-২০ টাকা বেড়ে কেজিপ্রতি ২৯০-৩০০ এবং পাকিস্তানি লেয়ার কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা বেড়ে ২৫০-২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়; বাজারে সমুদ্রের মাছ, চাষের মাছের দাম বেড়েছে। বাজারে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শিম, শসা, বেগুন, বরবটি, ঢেড়স, পটোল, ঝিঙেসহ নানান সবজির দামও চড়া। আলু ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর বহদ্দারহাট, চকবাজার, ২ নম্বর গেট কাঁচাবাজার, কাজির দেউড়ি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ক্রেতারা বলছেন, স্বাদের মাংস আর সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নেই। আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাংসের দাম বাড়ায় ক্রেতারা এখন মাংস কম কিনছেন।

সালাউদ্দিন নামে বহদ্দারহাট বাজারের গরুর মাংস ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে গরুর মাংস কম বিক্রি হচ্ছে। মাংসের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের চাহিদাও কমে গেছে। এক মাস ধরে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা করে বিক্রি করছি। গরুর মাংসের দাম বাড়ায় এখন মেজবানিসহ নানা অনুষ্ঠানও কমে গেছে। আগে যেখানে মণে মণে গরুর মাংস বিক্রি করতাম, এখন সেটা হচ্ছে না।’

শফিক নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘মুরগির মাংসের দাম বাড়ছেই। গরু ও খাসির মাংসের দাম বেশি হওয়ায় মুরগির মাংস কেনায় ক্রেতাদের চাহিদা রয়েছে।’

চকবাজারে গরুর মাংস কিনতে আসা নাছির উদ্দিন নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘আগে ৫০০ টাকায় গরুর মাংস কিনতাম। এখন তো দাম শুনে মাংসও কিনতে ইচ্ছে হয় না। এখন ৭০০ টাকার কমে গরু মাংস আর ৮০০ টাকার কমে খাসির মাংস কেনা যাচ্ছে না।’

এদিকে, এক লিটার ওজনের বোতলজাত সয়াবিন তেল এখনো ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না। খোলা সয়াবিন তেল গত সপ্তাহের তুলনায় একটু কমে ১৮০-১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১৯০-১৯৫ টাকা। বোতলজাত ৫ লিটার তেল আগের মতো বিক্রি হলেও তা সহজে মিলছে না। এ ছাড়া আগের মতোই স্বর্ণা (মোটা) ৪৬-৪৮, বিআর২৯ তিন টাকা বেড়ে ৫৮, বি২৮ আগের মতোই ৫৮-৬০, মিনিকেট ৬৮ এবং নাজির ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজি ৩০-৪০, ফুলকপি ৫৫-৬০, বাঁধাকপি ৫০-৬০, মুলা ৪০-৬০ এবং শিম ৮০-৯০, টমেটো ৪০-৫০, তিতকরলা ৬০-৬৫, বরবটি ৭০-৭৫, বেগুন ৫০-৬০, ঝিঙে ৫০-৬০, ঢেড়স ৭০-৮০, পটোল ৬০-৭০ ও কাঁকরোল ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, রূপচাঁদা মাছ প্রতি কেজি ৬শ/৮শ টাকা, চিংড়ি কেজি ৫৫০/৮০০ টাকা, রুই কেজি ২২০/২৮০ টাকা, পোপা ৩০০/৩৫০ টাকা, সুরমা ২৫০/৩০০ টাকা, ছোট কোরাল মাছ ৩৫০/৪০০ টাকা এবং বড় কোরাল ৭০০/৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত