জ্বালানি তেল রপ্তানি

পশ্চিমাদের চাপ পাত্তা দিচ্ছে না সৌদি-আমিরাত

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২২, ০২:৪৬ এএম

রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল আমদানির নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেলের সংকট দ্রুত মোকাবিলায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মতো দীর্ঘদিনের মিত্রদের দ্বারস্থ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন। ভেনেজুয়েলার মতো বৈরী সম্পর্ক থাকা দেশের সঙ্গেও চলছে তেল নিয়ে দর-কষাকষি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের দৌড়ঝাঁপের ইতিবাচক ফল এখনো পাওয়া যায়নি। উল্টো যাদের অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করতে এ নিষেধাজ্ঞা, সেই রাশিয়াকেই জ্বালানি তেল ইস্যুতে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

গতকাল বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওপেকের অন্যতম উৎপাদক সৌদি আরব ও ইউএই তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিজেদের অতিরিক্ত উৎপাদনক্ষমতা ব্যবহার করার যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। দেশ দুটি বলছে, তারা ওপেক এবং জোটের অধীনে একটি চুক্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যার মধ্যে রাশিয়াও রয়েছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে গতকাল ইউএইর পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বলেন, ‘জ্বালানি শক্তি এবং খাদ্যপণ্যের বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ইউক্রেন সংকটে মধ্যস্থতার সব প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাই। ইউএই একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ জোরদার করতে সবার সঙ্গে যুক্ত হতে প্রস্তুত।’

সম্প্রতি ইউএই ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে। ইউএই পশ্চিমা বিশ্ব এবং রাশিয়ার সঙ্গে সমতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ইদানীং তারা রাশিয়ার সঙ্গে আরও গভীর সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।

শেখ আবদুল্লাহ বলেন, মস্কোতে আলোচনা চলাকালে তিনি ইরান, সিরিয়া ও ইরাকের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এদিকে রাশিয়াও তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। রাশিয়া মনে করত, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলো ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিকে রক্ষা করার জন্য একটি প্রতিবন্ধকতা ছিল।

এদিকে তেল-গ্যাস জোগাড়ে গত বুধবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সৌদি আরব সফরে আসেন। তার এক দিন আগেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি সফর করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রেট ম্যাকগার্ক। তারা দেশ দুটিকে তেল রপ্তানি বাড়াতে অনুরোধ করলেও তাতে সাড়া দেননি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং আমিরাতের যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ-আল-নাহিয়ান।

আমিরাতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল খালিক আবদুল্লাহ বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেমন কিছুই পাবেন না। তাকে খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হবে।

উপসাগরীয় আরব দেশগুলো রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনার জন্য তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ইয়েমেন, ইরাক, লেবাননসহ ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আঞ্চলিক উদ্বেগগুলো মোকাবিলায় বৈশি^ক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত