করোনার দ্বিতীয় বছরে ব্যাংক আমানত ও ঋণ উভয় খাতেই অংশগ্রহণ কমেছে চট্টগ্রাম বিভাগের। তবে মোট ঋণে ঢাকা বিভাগের অংশগ্রহণ কমলেও আমানতে অংশগ্রহণ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ছিল ১২ লাখ ১০ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে অবস্থিত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণ ছিল সবচেয়ে বেশি, ৬৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। পরিমাণ ৮ লাখ ১৭ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। ঠিক এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা বিভাগের ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণ ছিল ৬৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। সেই হিসাবে আলোচিত বছরে মোট ঋণে ঢাকা বিভাগের অংশগ্রহণ কমেছে।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে মোট ব্যাংক ঋণের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের অংশ ছিল ১৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মোট ঋণের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ কিছুটা কমে ১৮ দশমিক ৫১ শতাংশে নেমে আসে। আলোচিত বছরে চট্টগ্রামের আমানতের অংশগ্রহণ ২১ দশমিক ৬২ শতাংশ থেকে কমে ২১ দশমিক ৫১ শতাংশে নেমে আসে। একই সময়ে ব্যাংক ঋণে খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের অংশগ্রহণ সামান্য হলেও বেড়েছে। অপরিবর্তিত ছিল ময়মনসিংহ বিভাগের ঋণ বিতরণ পরিস্থিতি।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে মোট ব্যাংক ঋণের খুলনা বিভাগের ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ ছিল ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা ২০২১ সালের ডিসেম্বরে হয়েছে ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। এছাড়া রাজশাহী বিভাগের ব্যাংকগুলোর ঋণ ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশে উন্নীত হয়। একইভাবে বরিশাল বিভাগের ব্যাংক ঋণ এক বছরের ব্যবধানে ১ দশমিক ১৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ, সিলেটের ব্যাংক ঋণ ১ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং রংপুর বিভাগের ব্যাংক ঋণ ২ দশমিক ৩৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২ দশমিক ৪২ শতাংশ হয়। তবে এক বছর আগেও মোট ব্যাংক ঋণে ময়মনসিংহ জেলার ব্যাংকগুলোর যে অবস্থান ছিল তা-ই রয়ে যায়, ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা ও চট্টগ্রামেই ব্যাংকের ঋণ বিতরণ বেশি। করোনা মহামারীর কারণে এ দুই বিভাগের ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করায় বিতরণের হার কম। ফলে মোট বিতরণ করা ঋণে এ দুই বিভাগের ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ কিছুটা কমেছে। তবে আমানত সংগ্রহের ক্ষেত্রে ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অংশগ্রহণ কিছু কিছু করে বেড়েছে। কমেছে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের আমানত। অপরিবর্তিত রয়েছে রংপুরের অংশগ্রহণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে জমা থাকা আমানতের স্থিতি ছিল ১৫ লাখ ১২ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের আমানত ছিল ৬১ দশমিক ১৫ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগের আমানত ছিল ৪ শতাংশ, বরিশাল বিভাগের আমানত ছিল ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ, সিলেট বিভাগের ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ ও ময়মনসিংহ বিভাগের আমানত ছিল ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে মোট আমানতে ঢাকা বিভাগের অংশগ্রহণ ছিল ৬১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, রাজশাহীর অংশগ্রহণ ছিল ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ, বরিশালের অংশগ্রহণ ছিল ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ, সিলেটের অংশগ্রহণ ছিল ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগের অংশগ্রহণ ছিল ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। তবে আলোচিত বছরে চট্টগ্রামের আমানতের অংশগ্রহণ ২১ দশমিক ৬২ শতাংশ থেকে কমে ২১ দশমিক ৫১ শতাংশে নেমে আসে। খুলনা বিভাগের আমানত ৪ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ হয়।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে মোট আমানতে রংপুর বিভাগের অংশগ্রহণ আগের বছরের মতোই ১ দশমিক ৯৫ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকতে দেখা যায়।
