সাহাবুদ্দীন আহমদ বেঁচে থাকবেন তার বিভিন্ন জাজমেন্টের জন্য: প্রধান বিচারপতি

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২২, ০৩:৫৭ পিএম

দেশের বিচারাঙ্গনের ‘উজ্জ্বল নক্ষত্র’ বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ তার বিভিন্ন বিচারিক সিদ্ধান্তের জন্যই সবার মাঝে বেঁচে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

রবিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে এ কথা বলেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি।

দায়িত্বে থাকাকালে সাহাবুদ্দীন আহমদের বিভিন্ন রায়ের প্রসঙ্গ ধরে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ‘এই জাতি, পার্টিকুলারলি যারা বিচারাঙ্গনে চলাফেরা করেন, তারা জানেন সাহাবুদ্দীন সাহেবের কী অবদান এই বিচারাঙ্গনে। তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন তার বিভিন্ন জাজমেন্টের জন্য।’

তিনি বলেন, ‘উনার ঐতিহাসিক জাজমেন্ট অষ্টম সংশোধনীর জাজমেন্ট। তা ছাড়া কখন স্যুট মেইনটেনেবল (মামলা পরিচালনার যোগ্য) হবে আর কখন স্যুট মেইনটেনেবল হবে না, থার্টি নাইন ডিএলআর অ্যাপিলেট ডিভিশন পেইজ-৪৬ এর জাজমেন্ট, এই জাতি পার্টিকুলারলি বিচারাঙ্গনে সবাই সারাজীবন মনে রাখবে।’

এখন থেকে ৫০ বা ১০০ বছর পরও বিচারপ্রার্থীরা ওই রায়ের সুফল পাবেন বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, ‘সাহাবুদ্দীন আহমদ বাংলাদেশের বিচারাঙ্গনের উজ্জল নক্ষত্র হয়ে বেঁচে থাকবেন। আমাদের স্বপ্নযুগে যে কজন বিচারপতিকে আমরা পেয়েছি, বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ তাদের মধ্যে একজন।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছেন বিচারপতি মোস্তফা কামাল, বিচারপতি এইচ রহমান (মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী। আজকে আমরা বিদায় জানাচ্ছি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে। বিচারাঙ্গনে পদচারণাকারী সবার জন্য একটা শোকের দিন আজ।’

সাবেক রাষ্ট্রপতির আত্মার মাগফেরাত কামনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আসুন আমরা সবাই তার জন্য দোয়া করি, যাতে করে আল্লাহ-তায়ালা তাকে বেহেশতের শ্রেষ্ঠতম স্থানে অধিষ্ঠিত করেন। উনার জন্য ও উনার পরিবারের জন্য আসুন আমরা দোয়া করি।’

ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে মারা যান সাহাবুদ্দীন আহমদ। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

রবিবার সকালে দীর্ঘদিনের কর্মস্থল সুপ্রিম কোর্টের পাশে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সাহাবুদ্দীন আহমদের জানাজা হয়।

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর পাশাপাশি সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি আবদুল ওহাব মিয়াসহ সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্ট বিভাগের বিচারকরা পুস্পস্তবক অর্পণ করেন সাহাবুদ্দীন আহমদের কফিনে।

১৯৯০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯৯৫ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ষষ্ঠ প্রধান বিচারপতি ছিলেন সাহাবুদ্দীন আহমদ।

নব্বইয়ের গণআন্দোলনের পর বাংলাদেশের গণতন্ত্রে ফেরার প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন সাহাবুদ্দীন। পরে ১৯৯৬ সালে আবারও তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের পদে ফিরেছিলেন।

দুপুরে ঢাকার বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত