স্ত্রীর টাকায় নেশা-জুয়া হিসাব চাওয়ায় খুন

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২২, ০২:৫৮ এএম

সাত বছর প্রবাসে থেকে কিছু টাকা জমিয়ে দেশে ফেরেন পারুল আক্তার (৩৫)। সাত মাস আগে বিয়ে করেন প্রবাসের এক বান্ধবীর ভাই শান্ত মল্লিককে (২৮)। বিয়ের পর বিদেশে যাওয়ার কথা বলে স্ত্রী পারুলের কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা ও পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার নেন শান্ত। তবে বিদেশে না গিয়ে শান্ত এই টাকা ও স্বর্ণ নষ্ট করেন মাদকসেবন আর জুয়া খেলে। পারুল সেই টাকার হিসাব চাইলে বাধে ঝগড়া। একপর্যায়ে পারুলকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন শান্ত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকার বাড়ি থেকে পারুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে নেমে গত শনিবার রাতে শরীয়তপুর পালং থানা এলাকা থেকে শান্তকে গ্রেপ্তার করেছে (সিআইডি)। পারুল হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারের বিষয় জানাতে গতকাল রবিবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে সিআইডি। সেই সংবাদ সম্মেলনে এসব জানায় সিআইডি। সিআইডি জানিয়েছে, শরিয়তপুরের পালং মডেল থানার চিতলিয়া গ্রামের মো. নুরুল হক মল্লিকের ছেলে শান্ত। তার বিরুদ্ধে এর আগেও মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানায় মাদক মামলা আছে। 

গতকাল সম্মেলনে বিস্তারিত জানান সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (এলআইসি) খায়রুল আমিন। তিনি বলেন, পারুল আক্তার প্রায় সাত বছর জর্ডানে চাকরি করে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন দাড়াইল এলাকায় নিজ নামে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। জর্ডানে থাকার সময়ে শান্তর বোন তামান্নার সঙ্গে পারুলের সুসম্পর্ক হয়। সেই সুবাদে শান্তর সঙ্গে পারুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

প্রায় ৭ মাস আগে তাদের বিয়ে হয়। এরপর শান্ত বিদেশে যাওয়ার কথা বলে পারুল আক্তারের কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা ও পাঁচ ভরি সোনা নিয়ে নেশা করে ও জুয়া খেলে তা শেষ করে ফেলে। সম্প্রতি পারুল তার কাছ থেকে নেওয়া টাকা ও সোনার বিষয়ে জানতে চাইলে তাদের মধ্যে কলহ দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি নিয়ে ফের উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পারুল আক্তারের গলায় দড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যান শান্ত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত