দুই রেফারিকে নিষিদ্ধ ও শাস্তির দাবি তুলেছে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম শীর্ষ দল শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। ক্লাবটির অভিযোগ, আলমগীর সরকার ও বিতু রাজ নামের দুই রেফারি লিগে তাদের সাম্প্রতিক দুই ম্যাচে পক্ষপাতমূলক বাঁশি বাজিয়েছে। যার ফলে শেখ রাসেলকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। নবম রাউন্ড শেষে অবনমন অঞ্চলে রয়েছে ২০১২-১৩ মৌসুমে ট্রেবলজয়ী দল শেখ রাসেল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় শেখ রাসেল ও বসুন্ধরা কিংসের মধ্যকার ম্যাচ পরিচালনা করেন আলমগীর সরকার। ম্যাচটিতে পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে হারে শেখ রাসেল। আর ১৮ মার্চ বিতু রাজ পরিচালিত বাংলাদেশ পুলিশের বিপক্ষে ম্যাচে পেনাল্টি গোল খেয়ে জয় হাতছাড়া হয় শেখ রাসেলের। ১-১ ড্র হয় ম্যাচটি।
এর প্রেক্ষিতে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের কর্তারা মঙ্গলবার রাতে জরুরি বৈঠক করে। সেখানেই ওই দুই রেফারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ক্লাবটি।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) যদি বিতর্কিত ওই দুই রেফারিকে নিষিদ্ধ না করে, তবে লিগ বর্জনের হুমকিও দিয়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। এমনকি ফেডারেশনের স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শরণাপন্ন হওয়ার কথাও ভাবছে তারা। উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্লাবটির প্রধান উপদেষ্টা।
ক্লাবটির অফিসে হওয়া নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। পরে ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ ইসমত জামিল আখন্দ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদীকে নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ক্লাবটি লিখেছে, ‘পেশাদার ফুটবল লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ও রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান একই ব্যক্তি থাকতে পারেন না। অতীতেও কখনো এরকম হয়নি। লিগ ও রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী এ পর্যন্ত লিগের একটি ম্যাচও মাঠে বসে দেখেননি, তাই মাঠে রেফারির পারফরম্যান্স সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই।’
সালাম মুর্শেদীর রেফারিজ কমিটির প্রধানের পদ আঁকড়ে থাকাটাকে অবৈধ বলে দাবি করছে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। ফিফা আইনের প্রসঙ্গ টেনে তারা লিখেছে, ‘ফিফা-এএফসির আইন অনুযায়ী, রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান হবেন সাবেক রেফারি। এখানে লিগ কমিটির প্রধান সালাম মুর্শেদী নিজের হাতে রেফারিজ কমিটির দায়িত্ব রেখে সুস্পষ্টভাবে ফিফার আইন লঙ্ঘন করেছেন।’
ক্লাবটি নিরপেক্ষভাবে ম্যাচ পরিচালনা ও বিতর্ক এড়ানোর জন্য বিদেশি রেফারি দিয়ে লিগের ম্যাচ পরিচালনার দাবি জানিয়েছে।
