২০৩৫ সালের মধ্যে যক্ষ্মায় মৃত্যু কমিয়ে আনতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নেওয়া লক্ষ্য অর্জনে সঠিক পথেই আছে বাংলাদেশ। সংস্থাটি ২০১৫ সালকে ভিত্তি বছর ধরে যক্ষ্মা রোগে মৃত্যুহার ৯৫ শতাংশ আর সংক্রমণ হার ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক দশকে যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যেমন কমে এসেছে তেমনি কমেছে মৃত্যু হারও। ২০১০ সালে যেখানে এ রোগে মৃত্যু ছিল প্রতি লাখে ৫৪ জন সেখানে ২০২০ সালে প্রতি লাখে মৃত্যু হয় ২৭ জনের। এক দশক ধরে নিরাময় হারও ৯৫ শতাংশের ওপরে।
অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি হিসাব অনুযায়ী, ১০ বছর ধরে এর নিরাময় হার ৯৫ শতাংশের বেশি আছে। ২০২১ সালে ছিল ৯৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। তবে ওই বছর ৩ লাখ ৭ হাজার ৪৪৪ নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে; যা এর আগের বছর শনাক্ত হয়েছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ৯৪০ জন। ২০২১ সালে যক্ষ্মার উপসর্গ আছে এমন প্রায় ২৮ লাখের বেশি লোকের পরীক্ষা করা হয়েছে।
জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ব্যবস্থাপক ডা. আহমেল হাসান সুমন বলেন, শহরাঞ্চলে বস্তি এলাকায়, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মাঝে, গার্মেন্টসে কর্মরত শ্রমিকদের মাঝে, জেলখানায় ও দুর্গম এলাকায় বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগী শনাক্তকরণ কর্মসূচি পালনসহ জনগণের মধ্যে সচেতনতায় বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কর্মসূচির কারণেই মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
বিশ্ব যক্ষ্মা দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘বিনিয়োগ করি যক্ষ্মা নির্মূলে, জীবন বাঁচাই সবাই মিলে’। ১৮৮২ সালে ২৪ মার্চ ডা. রবার্ট করু যক্ষ্মা রোগের জীবাণু আবিষ্কার করেন। যক্ষ্মা রোগের জীবাণু আবিষ্কারের ১০০ বছর পর ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ দিনটিকে স্মরণীয় করা ও যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর এ দিনটিকে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
