সোনালী ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তিতে অর্থমন্ত্রী

উদ্যোক্তাদের বাঁচিয়েছে সিঙ্গেল ডিজিট সুদ

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২২, ১১:৫২ পিএম

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে দেওয়ায় করোনা মহামারীর মধ্যে অনেক উদ্যোক্তা ঋণ নিতে পেরেছে। সুদহার বেঁধে না দিলে ১৮-২০ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে হতো উদ্যোক্তাদের। এই হারে ঋণ নিয়ে কেউ ব্যবসা করে করোনার মধ্যে টিকে থাকতে পারত না।

গতকাল বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘ব্যাংক খাতের সুদহার বেঁধে দেওয়ার কারণে আমরা অনেক আলোচিত-সমালোচিত হয়েছি। তবে এখন বিষয়টা অনেকটাই স্বাভাবিক। পৃথিবীর কোথাও ঋণের সুদহার ১৮-২০ শতাংশ নেই। এটা কমিয়ে আনা হয়েছে। এতে ক্ষতি নয়, বরং আমাদের উপকারই হয়েছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘করোনার এই সময়ে যদি ১৮, ২০ শতাংশ সুদহার বিদ্যমান থাকত। তাহলে একটি কোম্পানিও খুঁজে পাওয়া যেত না।’

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর মেয়াদি আমানতেরও সর্বনিম্ন সুদহার নির্ধারণে মূল্যস্ফীতির হার অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সুদহার নির্ধারণ করে দেওয়ায় এ নিয়ে সমালোচনাও ছিল বিশ্লেষক মহলে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘হলমার্কের ঘটনার পর থেকে সোনালী ব্যাংক ঋণ বিতরণে রক্ষণশীল হয়ে গেছে। জড়তা চলে এসেছে। শুধু সরকারের মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগ করলেই হবে না। ব্যক্তিপর্যায়েও ঋণ বিতরণ বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করে ঋণ দিলে কোনো বিপদ নেই।’

তিনি আরও বলেন, সোনালী ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) ৫০ শতাংশের কাছাকাছি। কিন্তু একটি তফসিলি ব্যাংক সর্বোচ্চ ৮৭ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সোনালী ব্যাংককে এই ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি করার পরামর্শ দেন গভর্নর। এছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধিতে সক্রিয় হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান বলেন, গত ৫০ বছরে সোনালী ব্যাংকের পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো। কারণ মাত্র ৩৬৭টি শাখা দিয়ে এই ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হলেও এখন শাখার সংখ্যা ১ হাজার ২০০’র বেশি। প্রাথমিক পর্যায়ে সোনালী ব্যাংকের আমানত ছিল মাত্র ১৭৩ কোটি টাকা। আর এখন তা বেড়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটিতে পৌঁছেছে। শুরুতে আমাদের বিতরণকৃত ঋণ ছিল মাত্র ৮৫ কোটি টাকা। বর্তমানে ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বিনা কমিশনে বিনিয়োগ করে সোনালী ব্যাংক। যেমন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুকেন্দ্র নির্মাণে মাত্র ২০ কোটি টাকায় প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার এলসি খুলেছে সোনলী। ফলে সরকারের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। তাছাড়া ব্যাংকগুলোকে যখন লিমিটেড কোম্পানির আওতায় আনা হয়, তখন থেকেই সোনালী ব্যাংকের ৭ হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি ছিল। প্রতি বছর ব্যাংকের মুনাফা থেকে সেই ঘাটতি সমন্বয় করতে করতে এখন তা শূন্যতে নেমে এসেছে।’

সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রথম অর্থ সচিব মতিউল ইসলাম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত