টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে চিন্তিত ব্যক্তি ছিলেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। টুর্নামেন্টের ব্যর্থতায় তার চাকরিটাই যে চলে যাচ্ছিল। সেই রাসেল এখন দলের সবচেয়ে নির্ভার ব্যক্তি। বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ের পর হোটেলে ফিরে তাই নাচতেও দেখা গেল তাকে। জোহানেসবার্গে বাংলাদেশ দলের টিম হোটেলে স্বাগত জানিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকানরা। বাংলাদেশের পতাকা হাতে উল্লাস করতে থাকা হোটেল স্টাফদের সঙ্গে নাচলেন ডমিঙ্গো। বাংলাদেশ কোচই সবচেয়ে বেশি নেচেছেন, এরপর মিরাজ-শরিফুল-এবাদত ও অন্যরা যোগ দিয়েছেন বাস থেকে নেমে। নিজ দেশের বিপক্ষে নিজের দল নিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের আনন্দটা একটু বেশিই ছুঁয়ে গেছে ডমিঙ্গোকে।
কোচ ডমিঙ্গোর জন্য এই স্বস্তিটা অন্যরকম এবং একটু বেশিই। এর আগে নিউজিল্যান্ডে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজ জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই দুই বছরের যে চুক্তি করেছিলেন তা যেন পাকা হয়ে গেল। বিশ্বকাপের ব্যর্থতায় তার বরখাস্তের খবর উঠে আসে। ত্বরিত সেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচক প্যানেলকে তিন মাসের সময় দেয় বোর্ড। সেই তিন মাস সময়ের শেষ মাস এখন চলছে। আর এর মাঝেই দুটি অভাবনীয় সাফল্যে অনিশ্চয়তা দূর করে ফেলেছেন ডমিঙ্গো। দলের এই সাফল্যে প্রশংসা শুধু তার নয়, পাচ্ছে পুরো টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকরা।
তাই কাল বিসিবিপ্রধান নাজমুল হাসান পাপন জানালেন কোচ পরিবর্তন এখন আর তার কাছে ইস্যু না, ‘আমরা বোর্ড কখনই এমন কিছু (সমালোচনা) করি নাই। এটা তো আপনারাই করেন। কেন করেন জানি না। আমাকে একটা প্রশ্ন করা হয়েছিল যে কোচিং স্টাফ বদলানো হবে কিনা। দেখেন, আপনারা তো এমনভাবে দেখান যে যখন সিরিজ জিতে যায় তখন মনে হয় সাংঘাতিক কিছু হয়ে গেছে। আবার একটা সিরিজ হারলে মনে করেন খুব খারাপ অবস্থা। আমরা কিন্তু ওই অবস্থায় না। যখনই মনে হবে পরিবর্তন দরকার, একইভাবে নির্বাচক প্যানেলেও যখন দরকার হবে আমরা পরিবর্তন করব। তবে কারও পারফরম্যান্সের হিসাব করে বদল করব সেটা না। যখন প্রয়োজন হবে তখন।’
কোচিং স্টাফ বা টিম ম্যানেজমেন্টরা ভালো করছে। পাপনের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় এই কোচিং স্টাফের অধীনে দল ট্রফি জিতছে। এই সাফল্য এই ধারা সামনেও দেখতে চান। তাই বর্তমান দলের সবাইকে সমর্থন দিচ্ছেন বোর্ডপ্রধান, ‘আমরা আগে বড় দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচ জিতেছি। কিন্তু সিরিজ জিতি নাই। সিরিজ-ম্যাচের মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য। এই পার্থক্য একমাত্র ট্রফির মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়। আপনি সিরিজ না জিতলে কিন্তু ট্রফি পাবেন না। তো আপনারা যত খারাপই বলুন না কেন সব ট্রফি এসেছে এদের হাত ধরেই। এখন আমাদের চাওয়া হলো বিদেশে গিয়ে নিয়মিত সিরিজ জেতা। এটা এখন টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে আছে, ক্রিকেটারদের মধ্যে আছে।’
