নিভৃতচারী গুণিজনদের খুঁজে পুরস্কৃত করা উচিত বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২২’ বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। দেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন অগ্রগতিকে আলোর পথের যাত্রা আখ্যায়িত করে একে অব্যাহত রাখার জন্যও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা মানুষের কল্যাণে এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রেখে যাচ্ছেন এমন অনেকেই রয়েছেন তারা কখনো প্রচারে আসেন না। তারা দৃষ্টিসীমার বাইরেই থাকেন। কিন্তু তাদের খুঁজে বের করে আমাদের পুরস্কৃত করা উচিত এ কারণে যে, তাদের দেখে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং অন্যরা শিক্ষা লাভ করতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী তার তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এবার ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও দুটি প্রতিষ্ঠানকে দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২২’ দেওয়া হয। এর আগে ১৫ মার্চ জাতীয় পর্যায়ে গৌরবময় ও অসাধারণ অবদানের জন্য ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২২’-এর জন্য চূড়ান্ত করে সরকার। বিতর্কের কারণে পরে সাহিত্য শাখায় পুরস্কারের জন্য মনোনীত আমির হামজার নামটি বাদ দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য গত বুধবার বিদ্যুৎ বিভাগের নাম মনোনীত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে আমরা এমনভাবে গড়ে তুলব যাতে বিশ্বের কাছে কোনো বাঙালিকে আর মাথা নিচু করে চলতে না হয়। সমগ্র জাতির কাছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে আমার আহ্বান থাকবে, অনুরোধ থাকবে, আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্বাধীন এ দেশকে আমরা এমনভাবে সমৃদ্ধিশালী করে গড়ে তুলব যাতে বাঙালি জাতিকে আর বিশ্বের কারও কাছে মাথা নত করে চলতে না হয়। আমরা উন্নত-সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করেই এগিয়ে যাব।’
সরকার প্রধান বলেন, ‘যে জাতি নিজের মাতৃভাষার জন্য বুকের রক্ত দেয়, স্বাধীনতার জন্য বুকের রক্ত দিয়ে যায়, সে মানুষকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারে না সে কথা বলে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ভাষণে। আমিও তা বিশ্বাস করি। অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় আমরা যে এগিয়ে যাচ্ছি সে যাত্রা যেন অব্যাহত থাকে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি তা ধরে রেখে এর সুফল প্রত্যেক ঘরে ঘরে পৌঁছে দেব, এটাই আমাদের লক্ষ্য এবং সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
কভিড-১৯-এর কারণে বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাভাব এবং দেশে দেশে খাদ্য সংকট থাকলেও আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পারায় তার সরকারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকার প্রধান বলেন, ‘২০২১ রূপকল্প অর্জনের পর এখন আমরা ২০৪১ সাল পর্যন্ত প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দিয়েছি। যাতে আগামী দিনে আমাদের এই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে। আর এই ব-দ্বীপ অঞ্চলের মানুষ যাতে আগামীতে একটি সুন্দর জীবন পায় এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন পেতে থাকে সেজন্য ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে তারা এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। ফলে বাংলাদেশ আর পরমুখাপেক্ষী থাকবে না। উন্নতসমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে এবং বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে।’
