ঢাকা-টরন্টো ফ্লাইটে কারা ভ্রমণ করছেন এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে শেষ মুহূর্তে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কয়েক কর্মকর্তা ওই ফ্লাইটে যাচ্ছেন নাএমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ থেকে ঢাকা-টরন্টো ফ্লাইট চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।
গত ২৩ মার্চ দেশ রূপান্তরে ‘প্রমোদ ভ্রমণে ৮ কোটি টাকা!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে কানাডার টরন্টোতে ‘পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক’ ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রীদের টিকিট উন্মুক্ত করা হলেও কেউ টিকিট পাচ্ছেন না। ওই ফ্লাইটে টরন্টো যাবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব, দুজন সাংসদ, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের কারও কারও পরিবারের সদস্যরাও যাচ্ছেন ওই ফ্লাইটে।
সংবাদ সম্মেলনে বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত টরন্টেতে পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক ফ্লাইটটি চালু করতে সক্ষম হয়েছি। যদিও এই পরীক্ষামূলক ফ্লাইটটিতে কিছু ভুলত্রুটি থাকতে পারে। আশা করছি আগামী জুন মাসে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটের আগেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আমাদের টার্গেট থাকবে যাতে এই রুটের ফ্লাইটটি বাণিজ্যিকভাবে সফলতা পায়।’
এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কানাডায় বিমানের অফিস ঠিক হয়েছে এক মাস আগে। জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) ঠিক করতে অন্য আরেকটি টিম আগেই কানাডা গেছে। জিএসএ নিয়োগের কোনো বিষয়ে কাজ করতে এ ফ্লাইটের কেউ টরন্টো যাচ্ছেন না। আশা করি আপনারা আপনাদের প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন।’ যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই কেন ফ্লাইটটি চালু করা হলো এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল। তবে কানাডা বলেছে, যাত্রীদের বোর্ডিং ইন্টিগ্রেট করতে গেলে ১২ সপ্তাহ সময় লাগবে। তার পরও আমরা তাদের অনুরোধ করি, যাতে ২৬ মার্চ বিশেষ দিন তারা আমাদের এ অনুমতি দেয়। তারা আমাদের অনুমতি দিয়েছে।’
মাহবুব আলী বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী টার্গেট থাকবে নিউ ইয়র্ক ফ্লাইট। এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থার একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে গেছেন। বর্তমানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তারা বেশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’
কোটি কোটি টাকা খরচ করে কি শুধু জিএসএ নিয়োগের হালচাল দেখার জন্যই এতসংখ্যক কর্মকর্তা টরন্টো যাচ্ছেন এমন প্রশ্নে বিমানের পরিচালক এয়ার কমোডর মাহবুব ই জাহান বলেন, ‘এটা ঠিক নয়। পরীক্ষামূলক এই ফ্লাইটটি অপারেট করতে টাকা ব্যয় হবে। এত লং রুটে এ ধরনের পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে পর্যবেক্ষণ টিম যেতেই পারে। ফ্লাইটে ৩৬ জন সাধারণ যাত্রী যাচ্ছেন। টরন্টো থেকে ঢাকা ফেরার জন্য ১৯ জন যাত্রী টিকিট কিনেছেন।’
পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের গতিপথ ও ধারণক্ষমতা নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে রাশিয়ায় যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট অন্য দেশের ওপর দিয়ে যাবে। ফলে অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা বেশি সময় লাগবে। তেল বেশি লাগবে। সেজন্য প্রাথমিকভাবে আমরা ঢাকা থেকে টরন্টো যাওয়ার সময় সর্বোচ্চ ১৩০ জনকে নিয়ে যাব। ফিরব ১২০ যাত্রী নিয়ে। এ সময় এক সাংবাদিক মিথ্যাচার করা হচ্ছে বললে বিমানের পরিচালক আর কথা বলেননি।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশনার ড. লিলি নিকোলসও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে কানাডাকে সংযুক্ত করার এই ফ্লাইটটি একটি ঐতিহাসিক ফ্লাইট। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে যে কটি দেশ প্রথমদিকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, তার মধ্যে কানাডা অন্যতম। আমি আশা করছি ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে দুদেশের বন্ধুত্ব আরও মজবুত হবে।’
বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাল ২৬ মার্চ বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানের ফ্লাইট বিজি-৩০৫ কানাডার টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবে। ২৭ মার্চ স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে টরন্টোতে অবতরণ করবে বিমানটি। টরন্টো থেকে ফিরতি ফ্লাইট বিজি-৩০৬ আগামী ২৯ মার্চ স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে এবং ৩০ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুর সোয়া ১২টায় ঢাকায় অবতরণ করবে। বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারের মাধ্যমে টরন্টো ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এই উড়োজাহাজে আসনসংখ্যা ২৯৮। পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে টরন্টো যাবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিমান ও বেবিচকের ৩৫ কর্মকর্তা এবং ৩৬ জন সাধারণ যাত্রী। ঢাকা-টরন্টো ভাড়া ধরা হয়েছে (ওয়ানওয়ে) ৭৫ হাজার ৮৩০ টাকা আর রিটার্নসহ ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
