সরকার রাজনীতি শেষ করে দিয়েছে, এখন অর্থনীতিও ধ্বংসের পথে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের কথা বলার স্বাধীনতা নেই। নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার স্বাধীনতা নেই। আজকে আমাদের অর্থনীতি ধ্বংসের পথে চলে গেছে। চাল, ডাল, তেলের দাম এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে সাধারণ মানুষ আর কিনতে পারে না। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি তেলের দামও হু হু করে বাড়ছে। আবার নাকি নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে।’
গতকাল শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহান স্বাধীনতা দিবসের শোভাযাত্রা উদ্বোধন করে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
স্বাধীনতা দিবসে শোভাযাত্রা আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর শাখা বিএনপি। শোভাযাত্রা নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে বিজয়নগর, পল্টন মোড় ঘুরে প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
বিকেল ৩টায় শোভাযাত্রার কর্মসূচি ছিল। তবে তার আগেই বেলা ১১টার পর থেকে রাজধানীর বিএনপি ও দলটির অঙ্গ সংগঠনের থানা, ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীরা ঢোল-তবলা বাজিয়ে খ- খ- মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জমায়েত হতে থাকেন। নেতাকর্মীদের হাতে হাতে ছিল জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবিসংবলিত পোস্টার ও ব্যানার। শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন। বিএনপির শোভাযাত্রা ঘিরে সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে মির্জা ফখরুল যখন শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন তখন ফকিরাপুল, নয়াপল্টন, বিজয়নগর সড়ক কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। শোভাযাত্রা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতার র্যালির মধ্য দিয়ে এই অবৈধ সরকারের কানে আমরা যে বাণী পৌঁছে দিতে চাই সেটা হচ্ছে আপনার (শেখ হাসিনার) দিন শেষ। দয়া করে এখন ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। অন্যথায় সকল একনায়কের, সকল স্বৈরাচারীর, সকল ফ্যাসিবাদের যে পরিণতি হয়েছে আপনাদেরও সেই একই পরিণতি হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপির ৩৫ লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। আমাদের ছয়শ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। প্রায় হাজারের ওপর নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।’
এ সময় মির্জা ফখরুল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
শোভাযাত্রার আগের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, সদস্য সচিব আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।
