সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর জেদ্দার একটি তেল ডিপোতে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। যদিও হামলার ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে সৌদি আরামকোর তরফে কিছু জানানো হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই হুথিদের টার্গেটে ছিল এটি। গত শুক্রবার হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া জানান, গোষ্ঠীটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আরামকোর স্থাপনা এবং ড্রোন দিয়ে রাস তনুরাসহ আরও একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এক টুইট বার্তায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইয়াহিয়া।
হুথিদের এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগেও সৌদির বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় হুথি বিদ্রোহীরা। শুক্রবারের ওই হামলার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে গতকাল শনিবার ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদিজোট। হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা জানা যায়নি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত।
আজ জেদ্দায় ফর্মুলা ওয়ান মোটর রেসিং টুর্নামেন্ট ‘সৌদি আরাবিয়ান গ্রান্ড প্রিক্স’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই রেসের সার্কিট থেকে ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছিল বলে রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক জানিয়েছেন। যদিও সৌদি সরকারের দাবি, তেলের গুদামে আগুন লাগার পর শুক্রবারেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে, কিন্তু দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম এখবারিয়া টেলিভিশন চ্যানেলের লাইভ ফুটেজে দেখা গেছে, ওই এলাকায় এখনো আগুন জ্বলছে।
এ হামলার বিষয়ে আরামকো কর্র্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি, তবে সৌদির জ্বলানি মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই হামলার কারণে যদি বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ে, সেক্ষেত্রে সৌদি আরব তার দায় নেবে না।
সম্প্রতি জ্বালানি উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকো। গত বছর দ্বিগুণ মুনাফা অর্জনের খবর সামনে আসার পরপরই এ ঘোষণা দেয় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম কোম্পানিটি। চাহিদার তুলনায় তেল-গ্যাসের সরবরাহ কম হওয়ায় সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বাড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। ইউক্রেন আগ্রাসনের কারণে রুশ জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে রাশিয়ার ওপর জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে বিকল্প উৎস খুঁজতে পশ্চিমা নেতাদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। সে বিষয়টি মাথায় রেখে উৎপাদনে আরও বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সৌদি সরকার।
