দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ এখন আত্মবিশ্বাসের সপ্তম স্বর্গে। স্বপ্নের উচ্চতা এতই যে এখন বিশ্বকাপ জয়ের বিশ্বাসও তৈরি করা যাচ্ছে। সিরিজ জয়ের দিন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো তামিম ইকবালদের এই স্বপ্ন দেখিয়েছেন। একই স্বপ্ন দেখছেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাও। স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে সাবেক অধিনায়ক বাধাও দেখছেন। তা হলো ভাগ্য। বিশ্বমঞ্চে বড় কিছু করতে হলে পারফরম্যান্সের সঙ্গে ভাগ্যেরও দরকার হয়। তবে মাশরাফী ভারত বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে সেমিফাইনাল খেলতে দেখছেন।
গত বিশ্বকাপে মাশরাফীর নেতৃত্ব দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। তিনটি জয় পেলেও সেমিফাইনালে না ওঠার হতাশায় ডুবেছিল। সেই একই দল নিয়ে এবার এই স্বপ্নটা সম্ভব দেখছেন মাশরাফী। তার চোখে তাকে ছাড়া পুরো দলটাই তো এক আছে, ‘প্রায় একই দল। শুধু আমার অনুপস্থিতি আছে। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর বলেছিলাম এই দলটার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য যা দরকার সব কিছুই আছে। তবে ক্রিকেটারদের সেই পর্যন্ত ফিট থাকতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপের আগে ফর্মে থাকা জরুরি। এই দল সেমিফাইনালে উঠবে এই বিশ্বাস আমার আছে। বিশেষ করে ভারতে যেহেতু খেলা। কিন্তু শুধু ভালো খেললে হবে না, ভাগ্যও লাগবে। সেমিফাইনালের পর শুধু ভালো খেললেই হবে না। সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল জিততে হলে ভাগ্যেরও দরকার আছে।’
মাশরাফীর নেতৃত্ব বাংলাদেশ দেশে সিরিজ জেতা শুরু করে। সেই অভ্যাসটা তার নেতৃত্বেই বিদেশের মাটিতেও বয়ে নেয় দল। মাশরাফীর অধীনে প্রথমবার ত্রিদেশীয় সিরিজ ট্রফি এসেছিল দেশের বাইরে। মাশরাফী সেই প্রসঙ্গ তুলে জানালেন দল এখন অন্য পর্যায়ে। তবে চূড়ান্ত সাফল্য না আসা পর্যন্ত উন্নতির সুযোগ দেখছেন সাবেক অধিনায়ক, ‘দেশের বাইরে আমরা জেতা শুরু করেছিলাম। এখন আমরা আরেকটা পর্যায়ে গিয়েছি, সিরিজ জিতেছি এবং এই পারফরম্যান্সটা ধরে রাখা এখন গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই ফরম্যাটে ভালো খেলছি আর ৪ জন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে যারা প্রায় ১৩-১৪-১৫ বছর খেলছে। চারজনের অভিজ্ঞতা মেলালে প্রায় ৬০ বছর। লিটন, তাসকিনদেরও ৭-৮ বছর হয়ে গেছে, মানে এখন ওদের পারফর্ম করার সময় এবং করছেও তারা।’
দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে সেরা ছিলেন তাসকিন আহমেদ। ওই ম্যাচের আগেই আইপিএলে খেলার সুযোগ মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেন এ পেসার। তাসকিনকে তাই আলাদা পুরস্কার দেওয়ার কথা বললেন মাশরাফী, ‘আপনি যদি অ্যান্ডারসন এবং ব্রডের দিকে তাকান, ইসিবি তাদের এই পুরস্কারটা দেয় যেহেতু তারা আইপিএল না খেলে দেশকে সার্ভিস দিচ্ছে। এতে ক্রিকেটারদের ভালোলাগা কাজ করে না বোর্ড আমাদের বিষয়টা দেখছে। তখন আমরা টেস্ট ক্রিকেট কেন যে কোনো ক্রিকেট খেলার জন্য প্রস্তুত থাকব।’
