ইসলামিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) গ্রাহকদের করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে এ প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করা হবে।
গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ এ প্রণোদনা প্যাকেজের নীতিমালা জারি করে। নীতিমালা অনুযায়ী, দেশে কার্যরত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর মধ্যে যারা ইসলামিক শাখা ও উইন্ডো পরিচালনা করে তারা এ ঋণ বিতরণ করতে পারবে।
এ প্রকল্পটি পরিচালনার জন্য ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে গত বছর ২৪ জুন স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার অর্থায়ন করবে। ওই সময়ে ডলারের দর ৮৪ দশমিক ৮০ টাকা হিসাবে তহবিলের আকার দাঁড়ায় ৩৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রথম ঋণ বিতরণের সময় থেকে পরবর্তী দুই বছর সময় পর্যন্ত এ তহবিল চলমান থাকবে। মুরাবাহা অর্থায়ন বা কিস্তিতে বিক্রয় পদ্ধতিতে এ ঋণ বা বিনিয়োগ করতে পারবে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। সরকারের এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এ তহবিলের সম্পদ অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর কাছে স্বল্প মুনাফায় বিক্রি করবে। অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আবার সেই সম্পদ সিএমএসএমইগুলোর কাছে বিক্রি করবে।
বর্তমানে পূর্ণাঙ্গরূপে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং করছে ১০টি ব্যাংক। এ ব্যাংকগুলোর শাখার সংখ্যা ১ হাজার ৬৭২টি। এছাড়া ৯টি প্রচলিত ধারার ব্যাংকের ৪১টি শাখা ও ১৪টি প্রচলিত ধারা ব্যাংকের ৩৬৮টি উইন্ডো থেকে ইসলামিক ব্যাংকি সেবা দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ইসলামিক ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর এসব শাখা ও উইন্ডো থেকেও এ অর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত সিএমএসএমই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো।
নীতিমালা অনুযায়ী, সিএমএসএমই খাতের প্রস্তুতকারক শিল্প, সেবা খাত ও ব্যবসা খাতের গ্রাহকদের পাশাপাশি নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের এ অর্থায়ন সুবিধা দেওয়া হবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এ তহবিল থেকে অর্থায়ন সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগে আবেদন করতে হবে। গত দুই বছর টানা মুনাফায় থাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন করতে পারবে। তবে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি থাকলে তারা অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবে না।
করোনা মহামারী দেখা দেওয়ার পরপরই ২০২০ সালের মার্চের ২৫ মার্চ জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেন। প্রথম দফায় গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য ৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করা হয়। এরপর বৃহৎশিল্পের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা, কৃষি খাতে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ২-৫ শতাংশ সুদে এ ঋণ দেওয়া হয়।
তবে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর জন্য আলাদা কোনো প্যাকেজ হাতে নিতে দেখা যায়নি।
