গত বছরের কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের প্রতিবেদন

১১১৭ শিশু ধর্ষণ ২৮৬৮টি বাল্যবিয়ে

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২২, ০৭:১৮ এএম

সারা দেশে গত বছর ১ হাজার ১১৭ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে এককভাবে ৭২৩ ও ১৫৫ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার। এ ছাড়া ২০০ প্রতিবন্ধী কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম ‘কন্যাশিশুর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরে। শিশু সুরক্ষায় পৃথক অধিদপ্তর গঠনের সুপারিশসহ কন্যাশিশু নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধসহ ১১টি দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর দেশে পাঁচজন বিশেষসহ ১১৬ কন্যাশিশু যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। ২০২০ সালে এ সংখ্যা ছিল ১০৪। বেশিরভাগ নির্যাতন রাস্তা, নিজের বাসা, নিকট আত্মীয় ও গৃহকর্তার মাধ্যমে হয়েছে।

এতে বলা হয়, ২০২১ সালে সারা দেশে ১ হাজার ১১৭ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ২০২০ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬২৬। এ হিসাবে গত বছর দেশে কন্যাশিশু ধর্ষণ বেড়েছে ৭৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২০২১ সালে পর্নোগ্রাফির শিকার হয়েছে ৫২ কন্যাশিশু। ১০ জন এসিড হামলা এবং অপহরণ ও পাচারের শিকার হয়েছে ২০৬ কন্যাশিশু। এ সময়ে বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে ২ হাজার ৮৬৮ জন। গড়ে প্রতিটি ইউনিয়নে ২১ শিশু বাল্যবিয়ের শিকার, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। ৮৭ কন্যাশিশুকে বাল্যবিয়ে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া গত বছর যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৭ কন্যাশিশু। তাদের মধ্যে যৌতুক দিতে না পারায় ৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম বলছে, গত বছর ২৪২ কন্যাশিশু আত্মহত্যা করেছে। তাদের মধ্যে প্রেমে প্রতারণার শিকার ৬১ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মনোমালিন্যে ৫৬ শিশু আত্মহত্যা করেছে। আর গত বছর ২৭২ কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশে প্রতিদিন সহস্রাধিক কন্যাশিশু পর্নোগ্রাফি ও সাইবার বুলিংয়ের হয়। তাদের মধ্যে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ ভুক্তভোগী সাইবার হয়রানি সম্পর্কিত অভিযোগ কেন্দ্রে মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়। এ হিসাবে মাসে প্রায় ৯০০ অভিযোগ জমা হয়।

কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম প্রতিবেদনের জন্য ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৪টি জাতীয়, স্থানীয় ও অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে ৬ থেকে ১৯ বছর বয়সী কন্যাশিশুদের প্রতি নির্যাতনের তথ্য সংগ্রহ করে ১৩টি ক্যাটাগরির আওতায় ৫৬টি সাব-ক্যাটাগরিতে বিশ্লেষণ করেছে।

অনুষ্ঠানে ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘কন্যাশিশু নির্যাতন বন্ধে সরকার, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় ভূমিকা দরকার। সচেতনতা বাড়ানোর জন্যই আমরা নির্যাতনের তথ্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরলাম।’

অনুষ্ঠানে ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি, দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, ব্র্যাকের নবনীতা চৌধুরী, গুডনেইবারস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মঈনুদ্দিন মাইনুল, এডুকো বাংলাদেশের গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত