পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সঙ্গে বৈঠকে বাজার মধ্যস্থতাকারীরা আসন্ন রোজার মাসে নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এতে করে মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকার ডিলার, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড থেকে ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ আসবে বলে জানিয়েছেন এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম। গতকাল বিকেলে বাজার মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে নতুন বিনিয়োগের এ তথ্য জানান তিনি।
রেজাউল করিম বলেন, রমজান মাসে পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগের বিষয়টি বাস্তবায়নে বাজার মধ্যস্থতাকারীদের সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন। এতে করে গত রমজানের তুলনায় চলতি বছরের রমজানে লেনদেনের পরিমাণ বাড়বে, যা পুঁজিবাজারের জন্য সহায়ক হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়বে। এতে করে বাজারে গতি ত্বরান্বিত হবে। পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে গত দুই সপ্তাহ ধরে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে এসইসি। এর আগে ব্যাংকের বিনিয়োগ ও বিশেষ তহবিল গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চেয়ে গভর্নরকে চিঠি পাঠায় কমিশন। আর গত মঙ্গলবার অতালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানির মূলধনের ২০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের যে পূর্বশর্ত ছিল, তা বাস্তবায়নে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যানের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। সবশেষ গতকাল পুঁজিবাজারের বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকে নতুন বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বিকেলে পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়ানোর লক্ষ্যে বাজার মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। বৈঠকে এসইসির পরিচালক শেখ মাহাবুবুর রহমান, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান, ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও এবং ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের (সিএমএসএফ) প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রেজাউল করিম বলেন, পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়ানোর লক্ষ্যে বাজার মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ানোসহ বিদ্যমানদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া বিএমবিএর ১০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, যা যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর নিজস্ব পোর্টফোলিওর মাধ্যমে রোজায় নতুন করে ২০০-৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে বিএমবিএ সভাপতি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন। বিএমবিএর পাশাপাশি ডিবিএর প্রেসিডেন্ট স্টক ব্রোকার ও ট্রেকহোল্ডারদের ডিলার অ্যাকাউন্টে রমজান মাসে কমপক্ষে ১ কোটি টাকা করে বিনিয়োগ করবেন। এতে বাজারে নতুন ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের আশা করা যাচ্ছে বলে রেজাউল করিম জানান। এছাড়া অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ও তাদের পরিচালিত ফান্ডগুলো থেকেও বিনিয়োগের ধারা অব্যাহত থাকবে।
