নারীদের দুই ধরনের বিষণ্নতা

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২২, ০৪:০৭ এএম

মনের এক রোগ ডিপ্রেশন। অবসন্ন মন, উৎসাহহীনতা ও শক্তিহীনতা যদি কোনো ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনে দীর্ঘসময় প্রভাব ফেলে তখন বলা যায় তিনি ডিপ্রেশনে রয়েছেন। নারীরা প্রধানত প্রসব পরবর্তী আর পিরিয়ড পূর্বকালীন বিষণœতায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তাই অবহেলা না করে চিকিৎসা নিলে সহজেই মুক্তি মেলে।

প্রসব পরবর্তী ডিপ্রেশন : সন্তান জন্ম দেওয়ার পর দুঃখবোধ হওয়া কিংবা শূন্যতা অনুভব করা স্বাভাবিক। বেশিরভাগ নারীর ক্ষেত্রেই এর স্থায়িত্ব হয় কয়েক দিন। কিন্তু যদি এমন হয় যে সন্তান জন্মদানের দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এই মন খারাপ, অসহায় বোধ হওয়া ভাব থেকে যায় তবে তিনি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে ভুগতে পারেন।

লক্ষণ :  অস্থির লাগা বা মেজাজ খারাপ থাকা  দুঃখবোধ বা অসহায় লাগা  সন্তানের প্রতি আগ্রহ কাজ না করা  খুব কম খাওয়া বা অতিরিক্ত খাওয়া স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া পরিবার ও বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সন্তান জন্মদানের পর দেহে হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও এই ডিপ্রেশন হতে পারে।

পিরিয়ড পূর্বকালীন ডিপ্রেশন : পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগে নারীরা ডিপ্রেশনের এই ধরনটির মুখোমুখি হতে পারে।

লক্ষণ  :  মুড সুইং হওয়া  বিরক্তি লাগা মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেওয়া ক্লান্ত লাগা ঘুমে সমস্যা হওয়া।

প্রতিকার : বিষণ্নতার চিকিৎসায় বিভিন্ন থেরাপি রয়েছে। এবং অন্যান্য রোগের মতনই ডিপ্রেশনের চিকিৎসা করা সম্ভব। লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ডিপ্রেশন বা বিষণœতার বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে।

সাইকোথেরাপি : এই প্রক্রিয়ায় একজন দক্ষ থেরাপিস্টের কাছে রোগী নিজের মানসিক অবস্থার কথা প্রকাশ করে করণীয় বিষয়ে জানেন। ডিপ্রেশনসহ অন্যান্য মানসিক সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে সাইকোথেরাপি বেশ ভালো কাজ করে। এই সাইকোথেরাপির কয়েকটি ধরন রয়েছে। একেক জনের ক্ষেত্রে একেক ধরনের সাইকোথেরাপি কার্যকর ভূমিকা রাখে।

জ্ঞানভিত্তিক আচরণীয় থেরাপি : এই থেরাপিতে একজন থেরাপিস্ট রোগীর সেই চিন্তাধারাগুলো খুঁজে বের করবেন যা তার ব্যবহার, আচরণ এবং নিজের প্রতি বিশ্বাসে খারাপ প্রভাব ফেলছে। তিনি ধীরে ধীরে রোগীর নিজের প্রতি খারাপ ধারণাগুলোকে ভালোতে রূপান্তরের চেষ্টা করবেন। এই যেমন, ‘আমি এই কাজ করতে পারব না’ এমন ধারণাকে ‘আমার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই কাজ করতে পারব’ এ নিয়ে যেতে সাহায্য করবেন থেরাপিস্ট। 

সাইকোডাইনামিক থেরাপি : এটি সাইকোথেরাপির একটি ধরন যেখানে রোগীর অতীত থেকে শুরু বর্তমান জীবন পুরোটাই থেরাপিস্ট অনুসন্ধান করবেন এবং দিনের পর দিন কীভাবে রোগীর মনের পরিবর্তন হয়েছে। কীভাবে রোগী তা পার করেছেন তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন রোগীর সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে। থেরাপিস্ট সব তথ্য জানার মাধ্যমে রোগীকে সাহায্য করবেন কীভাবে তিনি নিজের জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন।

ইলেক্ট্রোকনভালসিভ থেরাপি : যাদের ডিপ্রেশন চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে তাদের চিকিৎসায় ইসিটি ব্যবহার করা হয়। এই থেরাপিতে রোগীর মস্তিষ্কের কোষগুলোকে উজ্জীবিত করার জন্য তার কপালে খুব অল্প এবং নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে বৈদ্যুতিক প্রবাহ দেওয়া হয়। এই সময়ে রোগীকে অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হয় যাতে তিনি কোনোকিছু টের না পান। পুরো প্রক্রিয়াটির জন্য ৫-১০ মিনিট সময় লাগে।

মেডিটেশন থেরাপি : মেডিটেশন ডিপ্রেশনের লক্ষণ কমিয়ে আনতে সাহায্য করে এবং পুনরায় সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনাও হ্রাস করে।  ডিপ্রেশন বা বিষণœতা শুধুমাত্র মানসিক ব্যাধি নয় শরীর, সামাজিক অবস্থান এবং সবকিছু ওলট-পালট করে দিতে পারে। হতাশা এবং বিষণœতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগে, অতিসত্বর একজন সাইকোথেরাপিস্টের সঙ্গে কথা বলুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত